ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সায়মা ওয়াজেদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

ড. মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

 

সায়মা ওয়াজেদ প্রায় দু’দশক ধরেই বাংলাদেশে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছেন। অটিজম বিষয়টি আমাদের দেশে আগে খুব বেশি জানা ছিলো না। সাধারণ মানুষ এর সঙ্গে খুব একটা পরিচিত ছিলো না। অথচ ব্যাপকসংখ্যক অটিজম শিশু আমাদের দেশে অবহেলায় কিংবা পারিবারিক, সামাজিক নিগ্রহের স্বীকার হতো। পিতা-মাতা এসব শিশুদের নিয়ে খুবই কষ্টে থাকতেন। তিনি দেশে এসে এ বিষয়ে জনসচেতনতা ও তাদেরও বেড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে এমন ধারণা প্রচার করতে থাকেন। আমাদের চিকিৎসক সমাজও তার সঙ্গে একাত্ব হয়ে বিশেষ এই শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা, মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার ধারণাটি বাস্তবে রূপ দিতে থাকেন। বাংলাদেশে বলা চলে সায়মা ওয়াজেদই অটিস্টিক শিশুদের স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ধারণার বিস্তারে উদ্যোগী ভূমিকা নেন। এর পর থেকেই তিনি বাংলাদেশে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

 

সায়মা ওয়াজেদ ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম ও স্নায়ুবিক জটিলতা নিয়ে কাজ করছেন। ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজমবিষয়ক প্রথম দক্ষিণ এশীয় সম্মেলন আয়োজনের মূল ভূমিকায় ছিলেন। অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ক বাংলাদেশ জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে তার গৃহীত উদ্যোগসমূহ দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশংসিত হতে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁকে ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন সংস্থায় তার আমন্ত্রণ ঘটে। ২০১৩ সাল থেকে ডব্লিউএইচওতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসাবে কাজ করছেন। ২০১৪ সালে সংস্থাটি তাকে ডব্লিউএইচও এক্সিলেন্স পুরস্কারে ভূষিত করে। গত আগস্টে চ্যাথাম হাউজের গ্লোবাল হেলথ প্রোগ্রামের একজন সহযোগী ফেলো হিসাবে যোগ দেন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২২ সাল থেকে তিনি সেখানে ইউনিভার্সাল হেলথ কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

 

সায়মা ওয়াজেদ নিজেকে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য গত শতকের নব্বইয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার একাডেমি অব সায়েন্সেস থেকে ‘শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা’ হিসাবে স্বীকৃতি পায়। ২০০২ সালে তিনি ক্লিনিক্যাল সায়েন্সে স্নাতোকোত্তর করেন এবং ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি পান। তিনি এসব পড়াশোনা ও গবেষণাকর্মকে বাস্তবে প্রয়োগ ঘটাতে বাংলাদেশে আসেন। তখন থেকেই সায়মা ওয়াজেদ বিশেষ শিশুদের চিকিৎসা ও গড়ে তোলার বিষয়টি জনপ্রিয় করতে থাকেন। এখন তিনি দেশে ও বিদেশে এই বিষয়ে তার ভূমিকা এবং দক্ষতার জন্য খ্যাতি অর্জন করছেন। সম্প্রতি জি-২০ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে তার বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে পরিচিত হন। তার সহযোগিতা ভবিষ্যতে পাওয়ারও আশা প্রকাশ করেন। গত দুই দশক ধরে দেশে ও বিদেশে অটিজম বিষয়ে খ্যাতি অর্জন করার কারণে ডব্লিওএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে গত ১ নভেম্বর নির্বাচিত হন। এসইএআরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছয়টি আঞ্চলিক অফিসের একটি; সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে এ অফিস গঠিত।

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে ১৩টি। কিন্তু একটি দেশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি সেটি হলো মিয়ানমার। বাংলাদেশ, ভুটান, উত্তর কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, তিমুর, লেসেথো ও মিয়ানমার এ অফিসের সদস্য। বর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করছেন ভারতের পুণম ক্ষেত্রপাল সিং। আঞ্চলিক পরিচালক পদে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গোপন ভোটে পরিচালক পদে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান পরিচালক দায়িত্ব পালন করবেন। গত ১ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে এই ভোটাভুটি হয়। বাংলাদেশ এই পদে সায়মা ওয়াজেদের নাম প্রতিন্দ্বন্দীতার জন্য মনোনীত করে। ভারত বাংলাদেশের মনোনয়ন সমর্থন করে। বাংলাদেশের সায়মা ওয়াজেদ ও নেপালের শম্ভু প্রসাদ আচার্য পরিচালক পদে প্রতিদন্দীতা করেন। মিয়ানমারের বর্তমান পরস্থিতির জন্য সেদেশের সদস্যপদ স্থগিত রয়েছে। অন্য সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট প্রদান করেন। তাতে সায়মা ওয়াজেদ ৮ ভোট ও নেপালের প্রতিদন্দী ২ ভোট পান। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। শুধু প্রথম দায়িত্ব পাওয়ার জন্যই নয়; একজন নারী পরিচালক হিসেবেও এই দায়িত্ব পালনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

 

যদিও তার পরিচয় পারিবারিকভাবে সকলেরই জানা আছে। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাতনি, প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কন্যা। কিন্তু এই পরিচয়গুলোর বাইরেও তিনি তার নিজস্ব গুণের বিশেষ পরিচয়ে এখন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নানা ভূমিকা রাখার কারণে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তিনি যেহেতু এ বিষয়ে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন তাই সকলে আশা করছে যে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তার বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়ে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিতে যোগ্য ভূমিকা রাখবেন। অনেকেই সায়মা ওয়াজেদেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্তরাধীকার হিসেবে মনে মনে আশা করেছিলেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা পূরণে তাঁকেও ভবিষ্যতে পাওয়ার আশা রাখে।

 

(অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারীর এ লেখাটি ৩০ নভেম্বর দৈনিক আমাদের অর্থনীতিএবং আমাদের সময় অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত। এখনই সময়ের পাঠকদের জন্য কিঞ্চিৎ সংক্ষেপিত আকারে প্রকাশিত হলো।) 

মন্তব্য লিখুন

সায়মা ওয়াজেদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব

আপডেটের সময় ০১:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৩

ড. মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

 

সায়মা ওয়াজেদ প্রায় দু’দশক ধরেই বাংলাদেশে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছেন। অটিজম বিষয়টি আমাদের দেশে আগে খুব বেশি জানা ছিলো না। সাধারণ মানুষ এর সঙ্গে খুব একটা পরিচিত ছিলো না। অথচ ব্যাপকসংখ্যক অটিজম শিশু আমাদের দেশে অবহেলায় কিংবা পারিবারিক, সামাজিক নিগ্রহের স্বীকার হতো। পিতা-মাতা এসব শিশুদের নিয়ে খুবই কষ্টে থাকতেন। তিনি দেশে এসে এ বিষয়ে জনসচেতনতা ও তাদেরও বেড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে এমন ধারণা প্রচার করতে থাকেন। আমাদের চিকিৎসক সমাজও তার সঙ্গে একাত্ব হয়ে বিশেষ এই শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা, মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার ধারণাটি বাস্তবে রূপ দিতে থাকেন। বাংলাদেশে বলা চলে সায়মা ওয়াজেদই অটিস্টিক শিশুদের স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ধারণার বিস্তারে উদ্যোগী ভূমিকা নেন। এর পর থেকেই তিনি বাংলাদেশে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

 

সায়মা ওয়াজেদ ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম ও স্নায়ুবিক জটিলতা নিয়ে কাজ করছেন। ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজমবিষয়ক প্রথম দক্ষিণ এশীয় সম্মেলন আয়োজনের মূল ভূমিকায় ছিলেন। অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ক বাংলাদেশ জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে তার গৃহীত উদ্যোগসমূহ দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশংসিত হতে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁকে ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন সংস্থায় তার আমন্ত্রণ ঘটে। ২০১৩ সাল থেকে ডব্লিউএইচওতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসাবে কাজ করছেন। ২০১৪ সালে সংস্থাটি তাকে ডব্লিউএইচও এক্সিলেন্স পুরস্কারে ভূষিত করে। গত আগস্টে চ্যাথাম হাউজের গ্লোবাল হেলথ প্রোগ্রামের একজন সহযোগী ফেলো হিসাবে যোগ দেন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২২ সাল থেকে তিনি সেখানে ইউনিভার্সাল হেলথ কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

 

সায়মা ওয়াজেদ নিজেকে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য গত শতকের নব্বইয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার একাডেমি অব সায়েন্সেস থেকে ‘শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা’ হিসাবে স্বীকৃতি পায়। ২০০২ সালে তিনি ক্লিনিক্যাল সায়েন্সে স্নাতোকোত্তর করেন এবং ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি পান। তিনি এসব পড়াশোনা ও গবেষণাকর্মকে বাস্তবে প্রয়োগ ঘটাতে বাংলাদেশে আসেন। তখন থেকেই সায়মা ওয়াজেদ বিশেষ শিশুদের চিকিৎসা ও গড়ে তোলার বিষয়টি জনপ্রিয় করতে থাকেন। এখন তিনি দেশে ও বিদেশে এই বিষয়ে তার ভূমিকা এবং দক্ষতার জন্য খ্যাতি অর্জন করছেন। সম্প্রতি জি-২০ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে তার বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে পরিচিত হন। তার সহযোগিতা ভবিষ্যতে পাওয়ারও আশা প্রকাশ করেন। গত দুই দশক ধরে দেশে ও বিদেশে অটিজম বিষয়ে খ্যাতি অর্জন করার কারণে ডব্লিওএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে গত ১ নভেম্বর নির্বাচিত হন। এসইএআরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছয়টি আঞ্চলিক অফিসের একটি; সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে এ অফিস গঠিত।

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে ১৩টি। কিন্তু একটি দেশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি সেটি হলো মিয়ানমার। বাংলাদেশ, ভুটান, উত্তর কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, তিমুর, লেসেথো ও মিয়ানমার এ অফিসের সদস্য। বর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করছেন ভারতের পুণম ক্ষেত্রপাল সিং। আঞ্চলিক পরিচালক পদে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গোপন ভোটে পরিচালক পদে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান পরিচালক দায়িত্ব পালন করবেন। গত ১ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে এই ভোটাভুটি হয়। বাংলাদেশ এই পদে সায়মা ওয়াজেদের নাম প্রতিন্দ্বন্দীতার জন্য মনোনীত করে। ভারত বাংলাদেশের মনোনয়ন সমর্থন করে। বাংলাদেশের সায়মা ওয়াজেদ ও নেপালের শম্ভু প্রসাদ আচার্য পরিচালক পদে প্রতিদন্দীতা করেন। মিয়ানমারের বর্তমান পরস্থিতির জন্য সেদেশের সদস্যপদ স্থগিত রয়েছে। অন্য সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট প্রদান করেন। তাতে সায়মা ওয়াজেদ ৮ ভোট ও নেপালের প্রতিদন্দী ২ ভোট পান। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। শুধু প্রথম দায়িত্ব পাওয়ার জন্যই নয়; একজন নারী পরিচালক হিসেবেও এই দায়িত্ব পালনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

 

যদিও তার পরিচয় পারিবারিকভাবে সকলেরই জানা আছে। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাতনি, প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কন্যা। কিন্তু এই পরিচয়গুলোর বাইরেও তিনি তার নিজস্ব গুণের বিশেষ পরিচয়ে এখন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নানা ভূমিকা রাখার কারণে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তিনি যেহেতু এ বিষয়ে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন তাই সকলে আশা করছে যে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তার বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়ে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিতে যোগ্য ভূমিকা রাখবেন। অনেকেই সায়মা ওয়াজেদেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্তরাধীকার হিসেবে মনে মনে আশা করেছিলেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা পূরণে তাঁকেও ভবিষ্যতে পাওয়ার আশা রাখে।

 

(অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারীর এ লেখাটি ৩০ নভেম্বর দৈনিক আমাদের অর্থনীতিএবং আমাদের সময় অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত। এখনই সময়ের পাঠকদের জন্য কিঞ্চিৎ সংক্ষেপিত আকারে প্রকাশিত হলো।)