ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ও পাকিস্তানের ইমরান খান

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ও পাকিস্তানের ইমরান খান

আবদুল মান্নান

 

নানা জল্পনাকল্পনা শেষে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হলো সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে একটি কারণে বাংলাদেশের সম্প্রতি হয়ে যাওয়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আলোচনার দাবি রাখে। ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পাকিস্তানে কোনো সরকার তার সম্পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি।

বলা হয়, পাকিস্তানে সর্বাধিক সংগঠিত রাজনৈতিক দল সে দেশের সেনাবাহিনী ও আমলাতেন্ত্রর জোট। কোনো নির্বাচিত সরকার যদি এই জোটের কথামতো দেশ চালাতে অস্বীকার করে, তাহলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সেই সরকারের পদচ্যুতি নিশ্চিত। ১৯৪৭ সাল থেকে দেশটিতে যখনই এমন কাণ্ড ঘটেছে, তাতে সব সময় তাদের স্বার্থে সায় দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৮ সালে পাকিস্তানে নির্বাচিত হয়ে আসেন একসময়ের মাঠ-কাঁপানো ক্রিকেটার ইমরান খান ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই।

ক্ষমতায় আসার জন্য একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করতে হয়েছিল। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের ৭১ বছরের ইতিহাসে ২২তম প্রধানমন্ত্রী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কিছুটা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার পরিচালনা করছিলেন। ২০২২ সালে দেশে নানা ধরনের সাংবিধানিক সংকট দেখা দেয়, সংসদে তিনি শরিকদের সমর্থন হারান এবং শেষতক ক্ষমতাচ্যুত হন।

পরবর্তীকালে ইমরান খান তাঁর সরকার উত্খাতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে দায়ী করেন। এই ব্যক্তি একজন সরকার পরিবর্তন বিশারদ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও বেশ তৎপর ছিলেন।

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ও পাকিস্তানের ইমরান খান পাকিস্তানের সংসদ নির্বাচনের অনেক আগে নানা অভিযোগে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার হন ইমরান খান। তিনি ও তাঁর স্ত্রী একাধিক ঠুনকো মামলায় অভিযুক্ত হয়ে নানা মেয়াদে দণ্ডিত হন।

সর্বোচ্চ ১৪ বছর। তাঁর দল হারিয়েছে দলের প্রতীক। ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তেহরিকের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেন। তাঁদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর পছন্দের নওয়াজ শরিফের মুসলিম লীগ। নওয়াজ নিজে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কয়েক বছর নির্বাসিত ছিলেন।

বিশ্বে পাকিস্তান হচ্ছে একমাত্র দেশ, যেখানে নির্বাচনকালীন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আছে, যা পাকিস্তানের কোনো সংবিধানে ছিল না। পাকিস্তানের সেনা শাসক জিয়াউল হক এমন একটি ব্যবস্থা ১৯৮৫ সালে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন। পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে বিচারব্যবস্থার কোনো ভূমিকা থাকে না। এটি দেশটির রাষ্ট্রপতির নিজস্ব পছন্দের ওপর নির্ভর করে। তবে তাতে সেনাবাহিনীর সায় থাকাটা অলিখিতভাবে বাঞ্ছনীয়। ৮ তারিখের নির্বাচনে ইমরান খানের দলের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তাতে রাজনীতিতে ইমরান খানের পরিপক্বতার ছাপ স্পষ্ট। দলের প্রধান কারারুদ্ধ, প্রতীকও নেই, তার পরও তাঁর দল নির্বাচন বর্জন না করে তাতে অংশ নিয়েছে। ইমরান একজন অক্সফোর্ড শিক্ষিত। ছিলেন অক্সফোর্ড ডিবেটিং সোসাইটির প্রেসিডেন্ট। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি দেশটির রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। খেলার মতো রাজনীতিতে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কখনো জিতেছেন, কখনো পারেননি। ইমরানের সৌভাগ্য, বাংলাদেশের বিরোধী দল তথা বিএনপির মতো তাঁর দলকে নির্বাচন বর্জনের মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিজ দেশের কোনো কোনো অদূরদর্শী সুধীগোষ্ঠী, বাতিল বামপন্থীরা, মতলবি মিডিয়া বা কোনো বিদেশি শক্তি প্ররোচিত করেনি।

এবার আসি বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন এবং দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্বাচন বর্জন ও আগামী দিনের রাজনীতিতে দলটির অবস্থান নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণে। বিএনপির জন্ম যেভাবেই হোক না কেন, তারা বৈধ ও অবৈধভাবে প্রায় ১৮ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের প্রথম সেনা শাসক জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ক্ষমতা দখল করে বলেছিলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেব।’ সেটি পরবর্তীকালে দলটির জন্য কাল হয়েছে। জিয়া ক্ষমতায় থাকতেই বিএনপি গঠন করেছিলেন সামরিক ও বেসামরিক আমলা ও পেশাজীবীদের নিয়ে। সঙ্গে নিয়েছিলেন কিছু পাকিস্তানি ভাবধারার পরিত্যক্ত রাজনীতিবিদ। ক্ষমতায় থাকতে সব সময় নানা ফন্দিফিকির করেছেন। পরবর্তীকালে তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরও এই চিন্তাধারার বাইরে যেতে পারেননি। বিএনপির সঙ্গে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে তার জন্মলগ্ন থেকে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সব সময় নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি করেছে। শুধু ১৯৮৮ সালে এরশাদের অধীনে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার অধীনে নির্বাচনের নামে দুটি তামাশায় তারা অংশ নেয়নি। ১৯৭৯ সালে জিয়া যখন সামরিক শাসনের অধীনে সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করেন, তখন আওয়ামী লীগ অনেকটা ছত্রভঙ্গ। আওয়ামী লীগ যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তার জন্য জিয়া ঘোষণা করলেন, যেসব দল নির্বাচনে অংশ নেবে, তাদের নির্বাচন কমিশনে দলকে নিবন্ধিত করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা কোনো দলিলে কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির নাম (পড়ুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) উল্লেখ করা যাবে না। সেই সময় দলের হাল ধরেছিলেন শহীদ তাজউদ্দীনের স্ত্রী বেগম জোহরা তাজউদ্দীন, আবদুল মালেক উকিল ও মহিউদ্দিন আহমেদ। তাঁরা দলকে নিবন্ধিত করে সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনের দিন রাত ১০টা নাগাদ ফলাফল ঘোষণা বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সংবাদের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে আওয়ামী লীগ মাত্র ৩৯টি আসনে জয়ী হয়েছে আর বিএনপি ২০৯টিতে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তারা শুধু নির্বাচন বর্জনই করেনি, ঘোষণা করেছিল নির্বাচন প্রতিহত করা হবে, যা তারা পারেনি। যথারীতি ৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। এই সংসদের প্রথম অধিবেশন চলমান। অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের অদ্ভুত মিত্ররা প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন, ছোটখাটো সভা-সমাবেশ-সেমিনার নিয়ে ব্যস্ত। এখনো তাঁদের কেউ কেউ স্বপ্ন দেখেন বর্তমান সরকার তিন মাস টিকবে না। একজন তামাদি নেতা প্রতিদিন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা পালানোর পথ পাবে না। এই ব্যক্তি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন তিনি নিজেই একটি দল। জানা গেছে, ইদানীং বিএনপির পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাঁর দলকে যাঁরা নির্বাচন বর্জন করতে প্ররোচিত করেছিলেন, তাঁদের বাড়িতে শীতের পিঠা পাঠাচ্ছেন।

একটি রাজনৈতিক দল, যেটি দেশ শাসন করেছে প্রায় ১৮ বছর, সেই বিএনপির বর্তমান অনিশ্চিত যাত্রার জন্য কারা দায়ী—এমন প্রশ্ন তো করা যেতেই পারে। এককথায় বলা যেতে পারে, তাদের নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের ওপর আস্থা না রেখে বিদেশি এবং একটি স্বার্থান্বেষী তামাদি ও দেউলিয়া গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করা তাদের জন্য কাল হয়েছে। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি দাবি করল, উচ্চ আদালত থেকে খারিজ হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন না দিলে তারা নির্বাচনে যাবে না। এই দাবি সাংবিধানিকভাবে মানা সম্ভব ছিল না—এ কথা মানতে রাজি না বিএনপি ও তার মিত্র জামায়াত। দাবি মানতে বাধ্য করাতে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা আশ্রয় নিল এক ভয়াবহ সন্ত্রাসের। এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের বর্জনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সরকারে রয়ে গেল আওয়ামী লীগ। অথচ সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে সম্মানজনক আসনে জয়লাভ করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনটি ছিল দলের নিবন্ধন বাঁচানোর নির্বাচন এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি কৌশল, যাতে তারা মোটামুটি সফল হয়েছে।

সদ্যঃসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ফিরে গিয়েছিল তাদের ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগের অবস্থায়। এবার তাদের রাজনীতির কফিনে পেরেক ঠুকতে এগিয়ে এলো পশ্চিমা কিছু শক্তি, এ দেশের কিছু তামাদি বাম সংগঠন ও কিছু সুধীজন। বাতাস দিল কিছু মতলবি মিডিয়া। বিএনপি নিজের ওপর আস্থা না রেখে আস্থা রাখল এসব মতলবির ওপর। যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনকেন্দ্রিক ভিসা নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয় ঘোষণা করে, তখন বিএনপি ও তাদের মিত্ররা বেশ উল্লসিত হলো। কিন্তু সময় বয়ে যায়। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসে, ততই বাতাস ভারী করার চেষ্টা করা হয় নানা গুজবে। শেখ হাসিনার পলায়ন, এক-এগারোর মতো সরকার আসছে, রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিচ্ছেন, নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ—এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা প্রচারের চেষ্টা করেনি। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগেও প্রচার করার চেষ্টা করে, নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন বর্জনকারীরা যখন নানা স্বপ্নবিলাসে বিভোর, তখন নির্বাচন হয়ে গেল। তারপর নির্বাচন যখন হয়েই গেল, তখন স্বপ্নবিলাসীরা বলতে শুরু করে, নির্বাচন হয়ে গেলে কী হবে, কোনো দেশ এই নির্বাচন বা সরকারকে স্বীকৃতি দেবে না। সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কিছু নেই। স্বীকৃতি দেওয়া হয় দেশকে। সাম্প্রতিককালে কম্বোডিয়া ও মিসরে এমন নির্বাচন হয়ে গেল যে সেখানে ক্ষমতাসীন দল ছাড়া আর কোনো দল ছিল না। কই, গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালারা সেসব নির্বাচন নিয়ে তো তেমন কিছু বলেনি? তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে। পাকিস্তানে নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি বলেছি। সে দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংতায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছে। নির্বাচনের দিন মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ থেকেছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর ফলাফল ঘোষিত হওয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যেসব দেশ ও সংগঠন দৌড়ঝাঁপ করত, তারা পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে একেবারে চুপ।

বিএনপি কী করবে, তা তাদের ব্যাপার। তবে দেশে গণতন্ত্র বিকাশের জন্য একাধিক সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন রয়েছে। এই শূন্যতা পূরণ করতে পারত বাম দলগুলো, কিন্তু তারা চিন্তা-চেতনায় এতই দেউলিয়া হয়ে পড়েছে যে তাদের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে বলে কেউ মনে করে না। বিএনপি যদি এই শূন্যস্থান পূরণ করতে চায়, তাহলে তাদের অতীত সব ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। রাজনৈতিক দল কোনো বহুজাতিক সংগঠন নয় যে এটি অন্য দেশ থেকে পরিচালনা করা যায়। এসব বিষয়ে তাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা শিখতে পারে সদ্যঃসমাপ্ত পাকিস্তানের নির্বাচন ও ইমরান খানের দূরদর্শিতা থেকে। যদি তারা বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে চায়, সামনের সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে আর খুঁজে পাওয়া না-ও যেতে পারে।

 

(বিশিষ্ট কলামিস্ট, বিশ্লেষক ও গবেষক আবদুল মান্নান এর লেখা এই বিশ্লেষণধর্মী কলামটি আজ ১১ ফেব্রুয়ারি কালের কন্ঠ ও কালের কন্ঠ অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত। এখনই সময়ের পাঠকের জন্য কিঞ্চিৎ সংক্ষেপিত আকারে প্রকাশ করা হলো।)

মন্তব্য লিখুন

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ও পাকিস্তানের ইমরান খান

আপডেটের সময় ১২:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আবদুল মান্নান

 

নানা জল্পনাকল্পনা শেষে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হলো সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে একটি কারণে বাংলাদেশের সম্প্রতি হয়ে যাওয়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আলোচনার দাবি রাখে। ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পাকিস্তানে কোনো সরকার তার সম্পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি।

বলা হয়, পাকিস্তানে সর্বাধিক সংগঠিত রাজনৈতিক দল সে দেশের সেনাবাহিনী ও আমলাতেন্ত্রর জোট। কোনো নির্বাচিত সরকার যদি এই জোটের কথামতো দেশ চালাতে অস্বীকার করে, তাহলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সেই সরকারের পদচ্যুতি নিশ্চিত। ১৯৪৭ সাল থেকে দেশটিতে যখনই এমন কাণ্ড ঘটেছে, তাতে সব সময় তাদের স্বার্থে সায় দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৮ সালে পাকিস্তানে নির্বাচিত হয়ে আসেন একসময়ের মাঠ-কাঁপানো ক্রিকেটার ইমরান খান ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই।

ক্ষমতায় আসার জন্য একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করতে হয়েছিল। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের ৭১ বছরের ইতিহাসে ২২তম প্রধানমন্ত্রী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কিছুটা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার পরিচালনা করছিলেন। ২০২২ সালে দেশে নানা ধরনের সাংবিধানিক সংকট দেখা দেয়, সংসদে তিনি শরিকদের সমর্থন হারান এবং শেষতক ক্ষমতাচ্যুত হন।

পরবর্তীকালে ইমরান খান তাঁর সরকার উত্খাতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে দায়ী করেন। এই ব্যক্তি একজন সরকার পরিবর্তন বিশারদ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও বেশ তৎপর ছিলেন।

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ও পাকিস্তানের ইমরান খান পাকিস্তানের সংসদ নির্বাচনের অনেক আগে নানা অভিযোগে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার হন ইমরান খান। তিনি ও তাঁর স্ত্রী একাধিক ঠুনকো মামলায় অভিযুক্ত হয়ে নানা মেয়াদে দণ্ডিত হন।

সর্বোচ্চ ১৪ বছর। তাঁর দল হারিয়েছে দলের প্রতীক। ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তেহরিকের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেন। তাঁদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর পছন্দের নওয়াজ শরিফের মুসলিম লীগ। নওয়াজ নিজে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কয়েক বছর নির্বাসিত ছিলেন।

বিশ্বে পাকিস্তান হচ্ছে একমাত্র দেশ, যেখানে নির্বাচনকালীন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আছে, যা পাকিস্তানের কোনো সংবিধানে ছিল না। পাকিস্তানের সেনা শাসক জিয়াউল হক এমন একটি ব্যবস্থা ১৯৮৫ সালে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন। পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে বিচারব্যবস্থার কোনো ভূমিকা থাকে না। এটি দেশটির রাষ্ট্রপতির নিজস্ব পছন্দের ওপর নির্ভর করে। তবে তাতে সেনাবাহিনীর সায় থাকাটা অলিখিতভাবে বাঞ্ছনীয়। ৮ তারিখের নির্বাচনে ইমরান খানের দলের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তাতে রাজনীতিতে ইমরান খানের পরিপক্বতার ছাপ স্পষ্ট। দলের প্রধান কারারুদ্ধ, প্রতীকও নেই, তার পরও তাঁর দল নির্বাচন বর্জন না করে তাতে অংশ নিয়েছে। ইমরান একজন অক্সফোর্ড শিক্ষিত। ছিলেন অক্সফোর্ড ডিবেটিং সোসাইটির প্রেসিডেন্ট। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি দেশটির রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। খেলার মতো রাজনীতিতে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কখনো জিতেছেন, কখনো পারেননি। ইমরানের সৌভাগ্য, বাংলাদেশের বিরোধী দল তথা বিএনপির মতো তাঁর দলকে নির্বাচন বর্জনের মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিজ দেশের কোনো কোনো অদূরদর্শী সুধীগোষ্ঠী, বাতিল বামপন্থীরা, মতলবি মিডিয়া বা কোনো বিদেশি শক্তি প্ররোচিত করেনি।

এবার আসি বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন এবং দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্বাচন বর্জন ও আগামী দিনের রাজনীতিতে দলটির অবস্থান নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণে। বিএনপির জন্ম যেভাবেই হোক না কেন, তারা বৈধ ও অবৈধভাবে প্রায় ১৮ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের প্রথম সেনা শাসক জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ক্ষমতা দখল করে বলেছিলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেব।’ সেটি পরবর্তীকালে দলটির জন্য কাল হয়েছে। জিয়া ক্ষমতায় থাকতেই বিএনপি গঠন করেছিলেন সামরিক ও বেসামরিক আমলা ও পেশাজীবীদের নিয়ে। সঙ্গে নিয়েছিলেন কিছু পাকিস্তানি ভাবধারার পরিত্যক্ত রাজনীতিবিদ। ক্ষমতায় থাকতে সব সময় নানা ফন্দিফিকির করেছেন। পরবর্তীকালে তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরও এই চিন্তাধারার বাইরে যেতে পারেননি। বিএনপির সঙ্গে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে তার জন্মলগ্ন থেকে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সব সময় নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি করেছে। শুধু ১৯৮৮ সালে এরশাদের অধীনে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার অধীনে নির্বাচনের নামে দুটি তামাশায় তারা অংশ নেয়নি। ১৯৭৯ সালে জিয়া যখন সামরিক শাসনের অধীনে সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করেন, তখন আওয়ামী লীগ অনেকটা ছত্রভঙ্গ। আওয়ামী লীগ যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তার জন্য জিয়া ঘোষণা করলেন, যেসব দল নির্বাচনে অংশ নেবে, তাদের নির্বাচন কমিশনে দলকে নিবন্ধিত করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা কোনো দলিলে কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির নাম (পড়ুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) উল্লেখ করা যাবে না। সেই সময় দলের হাল ধরেছিলেন শহীদ তাজউদ্দীনের স্ত্রী বেগম জোহরা তাজউদ্দীন, আবদুল মালেক উকিল ও মহিউদ্দিন আহমেদ। তাঁরা দলকে নিবন্ধিত করে সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনের দিন রাত ১০টা নাগাদ ফলাফল ঘোষণা বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সংবাদের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে আওয়ামী লীগ মাত্র ৩৯টি আসনে জয়ী হয়েছে আর বিএনপি ২০৯টিতে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তারা শুধু নির্বাচন বর্জনই করেনি, ঘোষণা করেছিল নির্বাচন প্রতিহত করা হবে, যা তারা পারেনি। যথারীতি ৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। এই সংসদের প্রথম অধিবেশন চলমান। অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের অদ্ভুত মিত্ররা প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন, ছোটখাটো সভা-সমাবেশ-সেমিনার নিয়ে ব্যস্ত। এখনো তাঁদের কেউ কেউ স্বপ্ন দেখেন বর্তমান সরকার তিন মাস টিকবে না। একজন তামাদি নেতা প্রতিদিন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা পালানোর পথ পাবে না। এই ব্যক্তি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন তিনি নিজেই একটি দল। জানা গেছে, ইদানীং বিএনপির পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাঁর দলকে যাঁরা নির্বাচন বর্জন করতে প্ররোচিত করেছিলেন, তাঁদের বাড়িতে শীতের পিঠা পাঠাচ্ছেন।

একটি রাজনৈতিক দল, যেটি দেশ শাসন করেছে প্রায় ১৮ বছর, সেই বিএনপির বর্তমান অনিশ্চিত যাত্রার জন্য কারা দায়ী—এমন প্রশ্ন তো করা যেতেই পারে। এককথায় বলা যেতে পারে, তাদের নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের ওপর আস্থা না রেখে বিদেশি এবং একটি স্বার্থান্বেষী তামাদি ও দেউলিয়া গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করা তাদের জন্য কাল হয়েছে। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি দাবি করল, উচ্চ আদালত থেকে খারিজ হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন না দিলে তারা নির্বাচনে যাবে না। এই দাবি সাংবিধানিকভাবে মানা সম্ভব ছিল না—এ কথা মানতে রাজি না বিএনপি ও তার মিত্র জামায়াত। দাবি মানতে বাধ্য করাতে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা আশ্রয় নিল এক ভয়াবহ সন্ত্রাসের। এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের বর্জনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সরকারে রয়ে গেল আওয়ামী লীগ। অথচ সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে সম্মানজনক আসনে জয়লাভ করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনটি ছিল দলের নিবন্ধন বাঁচানোর নির্বাচন এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি কৌশল, যাতে তারা মোটামুটি সফল হয়েছে।

সদ্যঃসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ফিরে গিয়েছিল তাদের ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগের অবস্থায়। এবার তাদের রাজনীতির কফিনে পেরেক ঠুকতে এগিয়ে এলো পশ্চিমা কিছু শক্তি, এ দেশের কিছু তামাদি বাম সংগঠন ও কিছু সুধীজন। বাতাস দিল কিছু মতলবি মিডিয়া। বিএনপি নিজের ওপর আস্থা না রেখে আস্থা রাখল এসব মতলবির ওপর। যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনকেন্দ্রিক ভিসা নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয় ঘোষণা করে, তখন বিএনপি ও তাদের মিত্ররা বেশ উল্লসিত হলো। কিন্তু সময় বয়ে যায়। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসে, ততই বাতাস ভারী করার চেষ্টা করা হয় নানা গুজবে। শেখ হাসিনার পলায়ন, এক-এগারোর মতো সরকার আসছে, রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিচ্ছেন, নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ—এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা প্রচারের চেষ্টা করেনি। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগেও প্রচার করার চেষ্টা করে, নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন বর্জনকারীরা যখন নানা স্বপ্নবিলাসে বিভোর, তখন নির্বাচন হয়ে গেল। তারপর নির্বাচন যখন হয়েই গেল, তখন স্বপ্নবিলাসীরা বলতে শুরু করে, নির্বাচন হয়ে গেলে কী হবে, কোনো দেশ এই নির্বাচন বা সরকারকে স্বীকৃতি দেবে না। সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কিছু নেই। স্বীকৃতি দেওয়া হয় দেশকে। সাম্প্রতিককালে কম্বোডিয়া ও মিসরে এমন নির্বাচন হয়ে গেল যে সেখানে ক্ষমতাসীন দল ছাড়া আর কোনো দল ছিল না। কই, গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালারা সেসব নির্বাচন নিয়ে তো তেমন কিছু বলেনি? তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে। পাকিস্তানে নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি বলেছি। সে দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংতায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছে। নির্বাচনের দিন মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ থেকেছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর ফলাফল ঘোষিত হওয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যেসব দেশ ও সংগঠন দৌড়ঝাঁপ করত, তারা পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে একেবারে চুপ।

বিএনপি কী করবে, তা তাদের ব্যাপার। তবে দেশে গণতন্ত্র বিকাশের জন্য একাধিক সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন রয়েছে। এই শূন্যতা পূরণ করতে পারত বাম দলগুলো, কিন্তু তারা চিন্তা-চেতনায় এতই দেউলিয়া হয়ে পড়েছে যে তাদের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে বলে কেউ মনে করে না। বিএনপি যদি এই শূন্যস্থান পূরণ করতে চায়, তাহলে তাদের অতীত সব ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। রাজনৈতিক দল কোনো বহুজাতিক সংগঠন নয় যে এটি অন্য দেশ থেকে পরিচালনা করা যায়। এসব বিষয়ে তাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা শিখতে পারে সদ্যঃসমাপ্ত পাকিস্তানের নির্বাচন ও ইমরান খানের দূরদর্শিতা থেকে। যদি তারা বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে চায়, সামনের সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে আর খুঁজে পাওয়া না-ও যেতে পারে।

 

(বিশিষ্ট কলামিস্ট, বিশ্লেষক ও গবেষক আবদুল মান্নান এর লেখা এই বিশ্লেষণধর্মী কলামটি আজ ১১ ফেব্রুয়ারি কালের কন্ঠ ও কালের কন্ঠ অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত। এখনই সময়ের পাঠকের জন্য কিঞ্চিৎ সংক্ষেপিত আকারে প্রকাশ করা হলো।)