আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত শব্দ এখন ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে এবার নিজের পরিকল্পনার কথা জানালেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘আমার পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে একটি হলো এই বাংলাদেশের যে অর্ধেক নারী জনসংখ্যা রয়েছে তাদের নিয়ে এবং সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি এমন নয় যে ফ্যামিলি কার্ডটি যে নারী পাবে সে নারী সারাজীবন পাবে। এই কার্ডটি ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেওয়া হবে। এই সময়ে আমরা তাদের একটি সাপোর্ট দেব। চেষ্টা করব সেটা টাকার হিসেবে হতে পারে আবার প্রয়োজনীয় ফুড আইটেমের ওপর হতে পারে।’
কেন এই পরিকল্পনা সে বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি একজন গৃহিণীকে যদি সাপোর্ট দেওয়া হয় তাহলে, সে তার পরিবারের জন্য সঠিকভাবে খরচ করে। আমরা দেখেছি তার হাতে যে অর্থটি দেওয়া হয় সেগুলো মূলত তিনটি কাজে খরচ করে। প্রথমতো, তার পরিবারের স্বাস্থ্যের পেছনে; দ্বিতীয়ত, পরিবারের শিক্ষার পেছনে; তৃতীয় যে অর্থটা সে জমা করে সে ছোট ছোটোভাবে কোথাও ইনভেস্ট করে। এইভাবে যখন সে ইনভেস্ট করা ধরবে, স্বাভাবিকভাবে তার গ্রামের অর্থনীতিটা শক্তিশালী হবে, এভাবে তার উপজেলার, তার জেলার অর্থনীতিটা শক্তিশালী হবে। তার পরিবারটি যদি হেলদি হয় তাহলে এভাবে পুরো গ্রামটা হবে, পুরো উপজেলা হবে, জেলা, বিভাগ এবং এক সময়ে তার দেশটা হেদলি হবে।’
এই ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন সে বিষয়ে বিএনপির চেয়্যারম্যান বলেন, ‘৪ কোটি পরিবারের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড একবারেই দেওয়া সম্ভব না। আমরা গ্রাজুয়ালি যাব। যারা প্রান্তিক, আন্ডার প্রিভিলেজড তাদেরকে দিয়ে আমরা শুরু করব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কার্ডি জেনারেল রেখেছি, ইউনিভার্সাল রেখেছি। কারণ আমরা অতীতে দেখি যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সোস্যাল সেফটি নিয়ে যাদের ক্যাটাগরি করা হয়, নিয়ে আসা হয় সেখানে দুর্নীতি দেখা দেয়। সেই জন্য আমরা এটি জেনারেল রেখেছি। এটি গ্রামের ইমার সাহেবের স্ত্রী যেমন পাবেন তেমনি একইভাবে ডিসি সাহেবের স্ত্রীও পাবেন। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ডিসি সাহেবের স্ত্রী কিংবা এসপি সাহেবের স্ত্রীর নিশ্চয়ই সেটি নেবেন না। কারণ উনাদের ওটি প্রয়োজন হবে না। করাপশনটা যাতে একটু স্প্রেড না করে স্বাভাবিক একটা পর্যায়ে থাকে সেগুলো আমরা গ্রাজুয়ালি ঠিক করব।’
নারীদের নিরাপত্তা বিষয়ে এক নারী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, শুধু নারীর নয়, নারী ও পুরুষ সবারই নিরাপত্তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা অস্বাভাবিক। কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি হলেও এমন ঘটনা কেন ঘটছে তা নিয়ে রাজনীতিবিদদের গভীরভাবে ভাবা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন শফিক রেহমান, আবদুল হাই সিকদার, নুরুল কবির, মতিউর রহমান চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান, আযম মীর, শাহিদুল আহসান, জহিরুল আলমসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম এ আজিজ, কাদের গণি চৌধুরী, হাসান হাফিজ, শহিদুল ইসলাম ও খুরশীদ আলম।


