back to top
রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
Single Page Top Banner

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে অবৈধ মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম-১৪ (আসন নং ২৯১) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দীনের মনোনয়ন অবৈধভাবে গৃহীত হওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী ওমর ফারুক। তিনি এলডিপির সভাপতি কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ এর সন্তান।

কমিশনে জমা দেয়া অভিযোগে ওমর ফারুক উল্লেখ করেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্ববর্তী সাত দিনের মধ্যে কোনো স্বীকৃত ব্যাংকের ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ক্ষেত্রে মনোনয়ন দাখিল ও যাচাইয়ের সময় পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর ঋণসংক্রান্ত দায় পরিশোধ হয়নি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে তাঁকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়, যা নির্বাচনী আইনের সরাসরি পরিপন্থী।

আপিলে আরও উল্লেখ করা হয়, মনোনয়ন যাচাইয়ের নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ঋণসংক্রান্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির নথি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। বরং যাচাইয়ের দিন ঢাকার সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর মতিঝিল শাখা থেকে চট্টগ্রামে তড়িঘড়ি করে কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করে তা জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয় বলে আপিলে দাবি করা হয়। আপিলে বলা হয়, মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় প্রার্থীর ঋণসংক্রান্ত অবস্থান চূড়ান্ত ও প্রশ্নাতীত হতে হয়; অন্য কোনো জেলা বা শাখা থেকে শেষ মুহূর্তে আনা আংশিক নথি বা প্রক্রিয়াধীন কাগজের মাধ্যমে ঋণখেলাপির অবস্থা বৈধ করা যায় না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ঋণখেলাপি অবস্থা বহাল থাকার তথ্য থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বৈধ রাখা হয় বলে আপিলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর দাখিলকৃত হলফনামা ও আয়কর নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি ও অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আয়কর রিটার্নে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদর্শন করা হয়েছে, যার উৎস স্পষ্ট নয় এবং যা দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থপাচারবিরোধী আইনসমূহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা নির্বাচনী আইনের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অপরাধ এবং মনোনয়ন বাতিলের যথেষ্ট কারণ।

ওমর ফারুকের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর দাখিলকৃত হলফনামা ও আয়কর নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে। আয়কর রিটার্নে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ‘ক্যাশ ইন হ্যান্ড’ হিসেবে প্রদর্শন করা হলেও এর বৈধ উৎস স্পষ্ট নয়, যা দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়। এসব তথ্য গোপন বা অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা নির্বাচনী আইনের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অনিয়ম।

আপিলে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত। এসব মামলার প্রয়োজনীয় ও বৈধ নথি মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। আপিলে বলা হয়, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিচারাধীন গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যের পূর্ণ, স্পষ্ট ও স্বচ্ছ প্রকাশ আইনগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপিলে বলা হয়, এসব অভিযোগ উপেক্ষা করে মনোনয়ন বহাল থাকলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা এবং ভোটারদের আস্থার ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নটি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন অতীতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত