৩১ শে ডিসেম্বর মাসে ২০২৫ ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট ৷ থার্টি-ফাস্ট নাইট উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীতে ছিল পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷ চান্দগাঁও থানাধীন বাহির সিগন্যাল সংলগ্ন খন্দকার পাড়া ফতো পুকুর পাড় সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিলো পুলিশ৷ এসময় চেকপোস্টে পুলিশ দেখে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কালে তানভীরুল ইসলাম তামিম (২০) এবং মো আমিরুল ইসলাম মুন্না (১৯) নামের দুইজন যুবককে কৌশলে আটক করে পুলিশ৷ এসময় তাদের দেহ তল্লাশি করে তামিমের কোমর থেকে একটি বিদেশী পিস্তল একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখিত দুই যুবকের কাছ থেকে বিদেশী পিস্তল উদ্ধারের বিষয়টি আরো অধিকতর তদন্ত করছে পুলিশ৷ এখনই সময়ের অনুসন্ধানে অস্ত্রসহ আটক দু’জনের পারিবারিক পরিচয় জানার পর এই বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাজ শুরু হয়৷ জানা গেছে, যার কোমর থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয় সেই যুবক তানভীরুল ইসলাম তামিম (২০) হচ্ছে সম্প্রতি নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলার বড় ভাই জাহাঙ্গীরের ছেলে৷ আর গ্রেফতার অপরজন মো আমিরুল ইসলাম মুন্না (১৯) সরোয়ার বাবলার চাচাত ভাইয়ের ছেলে।
এই দুই যুবকের অস্ত্রসহ গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এক পর্যায়ে নিহত সরোয়ার বাবলার মেজ ভাই আলমগীর বলে ফেলেন অস্ত্রটি তার ভাই সরোয়ারের৷ আলমগীর এই প্রতিবেদককে বলেন, “পিস্তলটি আমার ভাই সরোয়ারের কাছেই থাকতো৷ সে যেদিন মারা যায় সেদিন সে পিস্তলটি নিয়ে যায়নি৷ তার মৃত্যুর পর সেটি ওর (সরোয়ার বাবলার) আলমিরাতেই পড়ে ছিল৷ আমাদের ছেলে দুটা (গ্রেফতার তামিম ও মুন্না) ইয়াং বয়সী৷ তানিম আলমিরা থেকে পিস্তনটা নিয়ে কোত্থেকে একটা বাইক পেয়ে সেটা নিয়ে ওরা দু’জন একটু ঘুরতে গিয়েছিল।” এসময় আলমগীর অস্ত্রসহ গ্রেফতার ভাতিজাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ওরা কি অস্ত্রটা কাউকে দেখিয়ে চাঁদা চেয়েছিল ? নাকি কাউকে মারতে গেছে ?। একটু মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিল। (প্রতিবেদকের কাছে আলমগীরের এই সংক্রান্ত বক্তব্যের ভিডিও সংরক্ষিত আছে)৷

প্রসঙ্গত, সরোয়ার বাবলাকে হত্যার পর তার ভাই আজিজকে মুঠোফোনে কল দিয়ে বার বার হুমকি দেয়ার প্রেক্ষিতে নিহত সরোয়ারের বায়েজিদ থানাধীন খন্দকার পাড়ার বাড়িটিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই দিন-রাত ২৪ ঘন্টা পালাক্রমে পুলিশী প্রহরা নিয়োজিত করা হয়৷ অর্থাৎ যে সময় নিহত সরোয়ার বাবলার বাড়ির আলমিরা থেকে তামিম বিদেশী পিস্তলটি নিয়ে বাহিরে বেরিয়েছিল তখনো সেখানে চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল যা এখনো বলবৎ আছে ৷
এই বিষয়ে চান্দগাঁও থানার অস্ত্র উদ্ধারের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোশারফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনের মধ্যে তানভীরুল ইসলাম তামিমকে আদালতের অনুমতি ক্রমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷ বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন তাই এই মূহুর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছিনা৷।” তবে দ্রুততম সময়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতকে জানানো হবে বলে জানান তিনি৷
এই বিষয়ে জানতে বায়েজিদ থানার ওসি’র সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি৷ ফলে সরোয়ার বাবলার বাড়িতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিধি সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি৷
সার্বিক বিষয়ে সিএমপি উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি৷ অস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্রের উৎসের সন্ধান করাই আমাদের কাজ।


