চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই যথেষ্ট নয়; বরং নির্বাচন ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, অংশগ্রহণমূলক ও জনবান্ধব করে তুলতে ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন।
প্রান্তিক, উপকুলীয় ও দুর্গম অঞ্চলের ভোটার, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী, বয়স্ক ভোটার ও প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গণভোট (রেফারেন্ডাম) এবং পোস্টাল ব্যালটসহ বিকল্প ভোটিং ব্যবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে করে ভোটাররা আরও সহজে ও নিরাপদভাবে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই ও বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস)-এর আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেম (আইএফইএস) এর সহায়তায় ইনক্লুসিভ ভোটার এডুকেশন প্রোগ্রামের আওতায় ডিভিশনাল-লেভেল কো-অর্ডিনেটিং এন্ড শেয়ারিং মিটিং প্রধান অতিথির উপরোক্ত অভিমত জানান।
ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, ফেমা চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার সাবেরী, বিশিষ্ট কলামিস্ট। মূসা খান, বিপিকেএস কুমিল্লা’র তরিকুল ইসলাম, সবুজের যাত্রার নির্বাহী পরিচালক সায়েরা বেগম, সিএসডিএফ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী শম্পা কে নাহার, দৈনিকপূর্বদেশের স্টাফ রিপোটার মনিরুল ইসলাম মুন্না, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা ডিডিআরসির সমন্বয়কারী ইসহাক মিয়া, ক্যাব চট্টগ্রামের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহঙ্গীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দূরত্ব কিংবা সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেন না। পোস্টাল ব্যালট বা অন্যান্য সহায়ক পদ্ধতি চালু ও কার্যকর করা গেলে এসব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং নির্বাচন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও সিভিল সোসাইটির সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনক্লুসিভ ভোটার এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে গণভোটসহ যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যদানকালে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ইনক্লুসিভ ভোটার এডুকেশন প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের সকল স্তরের মানুষের, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ভোটাধিকার একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হলেও এখনও অনেক মানুষ ভোট দেওয়ার পদ্ধতি, গুরুত্ব ও সুযোগ সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন। এ প্রকল্পের আওতায় উঠান বৈঠক, মক ভোটিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় ভোটাধিকার বিষয়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেম (আইএফইএস)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়ন করা হলে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন আইএসডিই বাংলাদেশের মনিটরিং অ্যান্ড লানিং অফিসার সুপম বড়ুয়া। তিনি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এর মধ্যে যুব ওরিয়েন্টশন, উঠান বৈঠক, মক ভোটিং, সাংস্কৃতিক প্রচারণাসহ নানামুখী সচেতনতামূলক কর্মসূচির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।
সভায় গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা মতবিনিময়ের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন।


