বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও দেশটির রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলার করা মন্তব্যকে ‘কূটনৈতিক রীতিনীতিবিরোধী’ আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির দাবি, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিদেশি কোনো রাজনীতিবিদের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্র নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, হর্ষবর্ধন শ্রিংলার এই বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তথ্যবিকৃত এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা মন্তব্য করেন যে, জামায়াত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে কখনও জিততে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।
তিনি দাবি করেন, অতীতে তারা কখনোই ৫ থেকে ৭ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। নির্বাচনে অনিয়ম হলেই কেবল তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শ্রিংলার বক্তব্যের প্রতিবাদে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন অদূরদর্শী বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব এখতিয়ার। কোনো রাজনৈতিক দল কী পরিমাণ জনসমর্থন পাবে তা নির্ধারণ করার অধিকার কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের নেই।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সৌহার্দ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করে। জামায়াত একটি নিবন্ধিত ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে জনগণের অধিকার ও সুশাসনের প্রশ্নে সবসময় আপসহীন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণই প্রকৃত রায় দেবে এবং এ বিষয়ে দলের কোনো সংশয় নেই।
পরিশেষে জামায়াত নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, ভারতের দায়িত্বশীল মহল এ ধরনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখবে।


