বিদ্যুত লাইন বন্ধ করে টিয়ারশেল ছুঁড়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে ধর্ষণে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩৪) বাকলিয়া থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাকলিয়া থানাধীন নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডের বিসমিল্লাহ ম্যানশন থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জনের বেশি লোকজন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।
থানা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, অভিযুক্তকে থানায় আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। তাঁরা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতার একটি দল থানা ঘেরাও করতে মূল সড়কে পৌঁছে যায়। এ সময় কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও ঘটে।
রাত ১১টার দিকে চসিক মেয়র ডা.শাহদাত হোসেন চমেকে ভর্তি আহত সাংবাদিকসহ অন্যান্যদের দেখতে যান।
এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে ও একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। অভিযুক্ত মনিরের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি বাকলিয়ায় একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ধর্ষণে অভিযুক্ত মনির ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে শয়তানে পাইছে, আমি দোষ স্বীকার করছি’।
পুলিশ জানায়, ডেকোরেশন কর্মচারী মনির চকলেটের লোভ দেখিয়ে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনায় জড়িত ডেকোরেশনের কর্মচারী মনিরকে আটক করে। কিন্তু থানায় আনার পথে বিক্ষুদ্ধ লোকজন পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। তারা ধর্ষককে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। পরে বিক্ষোভ বাড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়।


