উচ্চ আদালতের স্থগীতাদেরকে অমান্য করে নিজের খেয়াল খুশি মতন কালুরঘাটস্থ ফেরিঘাটে ইজারার টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করেছেন চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। সকাল থেকে তার নিজ কক্ষে স্থাপিত টেন্ডার বক্সে টেন্ডার গ্রহণ প্রক্রিয়া চলতে দেখা যায়৷ এসময় তিনি নিজ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন৷
আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি অবগত আছেন বলে স্বিকার করেন৷ তাবে যেহেতু আগেই টেন্ডার আহবান করে ফেলেছেন তাই তার প্রক্রিয়া তিনি চালিয়ে যেতে পারেন বলে দম্ভোক্তি করেন৷ এসময় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে এক পর্যায়ে তিনি রিতিমতন দৌড়ে নিজ কক্ষ ত্যাগ করেন৷।
এরপর থেকে কড়া পুলিশ প্রহরায় উম্মুক্ত এই দরপত্র গ্রহণের কার্যক্রম চলতে থাকে৷ এসময় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাঁধা দেয় পুলিশসহ উপস্থিত সওজ’র কর্মকর্তারা৷ অথচ উম্মুক্ত টেন্ডার বক্সের ছবি ধারণে অতীতে কখনো এমন বাঁধা প্রদানের নজির নেই৷ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাত্র দুটি দরপত্র বক্সে পড়েছে বলে জানা গেছে৷ তবে বেলা ৩টা ১০ মিনিটে এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত টেন্ডার বক্স খোলা হয়নি এবং নির্বাহী প্রকৌশলি নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হননি৷
উচ্চ আদালতে আবেদনকারী সূত্র বলছে, গতকাল নির্বাহী প্রকৌশলির নিজ কার্যালয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও রুন নিশি জারি সংক্রান্ত দলিলাদি রিসিভ করেছিলেন৷ তবে আজ সকাল পূর্বঘোষিত দরপত্র গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনাকে উচ্চ আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন বলে মনে করছেন সওজ’র ঠিকাদাররা৷ একই সাথে এটি আদালত অবমাননা বলেও মনে করছেন বর্তমান ইজারাদার৷ বিষয়টি দ্রুত আদালতের নজরে আনার আইনী প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মেসার্স আমরিন এন্ড ব্রাদার্স’র কর্মকর্তা৷
সওজ’র একাধিক সূত্র বলছে, আদালতের স্টে অর্ডারের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে রহস্যজনক নীরবতায় ছিলেন সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী ৷ অভিযোগ উঠেছে নিজের পছন্দের লোকদের ফেরিঘাটটির ইজারা দিতে বেশ কিছুদিন যাবৎ তৎপর হয়ে উঠেছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ একটি পক্ষ ৷ ইতিমধ্যে একাধিক গোপন বৈঠক করে সাজানো দরপত্র নাটক মঞ্চস্থ করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজ’র একাধিক ঠিকাদার ৷
তবে শেষ মূহুর্তে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞায় সব ভেস্তে যাওয়ায় কিছুটা বেকায়দায় আছেন তিনি৷ তাই গণমাধ্যমসহ সকলের সাথে যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন৷
এই বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী’র সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি৷

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে “দৈনিক পূর্বকোণ” পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর উপর অবস্থিত কালুরঘাট ফেরিঘাট ২০২৬-২০২৭, ২০২৭-২০২৮ এবং ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরের জন্য ইজারা প্রদানের উদ্দেশ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে উক্ত বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ৫৯৭৭/২০২৬ দায়ের করেন মেসার্স আমরিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের ম্যানেজার মোঃ আরিফ উল ইসলাম।
গত ১১ মে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও মাননীয় বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে উক্ত টেন্ডার কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Stay Order) প্রদান করেন। একই সঙ্গে আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি রুল নিশি জারি করে জানতে চান, কেন ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিকে আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।


