back to top
মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
Single Page Top Banner

ডিবি অফিসে প্রবাসীর স্ত্রী’কে জিম্মি করে কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ!

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী লুৎফুর নেছার অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে ডিবি পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর নগরের মনসুরাবাদ এলাকায় ডিবি উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টা আটকে রেখে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গত ১ জুন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ডিবির এসআই মহিউদ্দীন রাজু, বরখাস্ত সাবেক ডিবি কর্মকর্তা দীপঙ্কর, নাজমুল হাসান ওরফে নাহিদসহ পাঁচজনকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু বাকর সিদ্দিক বলেন, “ভুক্তভোগী গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”

মামলার নথি অনুযায়ী, লুৎফুর নেছার স্বামী ফজলুল কাদের বাদশা সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোবাইল এক্সেসরিজ ব্যবসা করেন। ২০২৪ সালে সেখানে নাজমুল হাসান ওরফে নাহিদের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ব্যবসায় লোকসানের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জের ধরেই নাহিদ দেশে ফিরে কাদেরের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু করেন।

মামলায় বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নগরের মুরাদপুর এলাকার বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি লুৎফুর নেছাকে তুলে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে এসআই মহিউদ্দীন রাজু, নাহিদ ও সাবেক ডিবি কর্মকর্তা দীপঙ্কর ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা লিখিত নোটিশ ছাড়াই তাকে জোর করে গাড়িতে তোলা হয় বলে দাবি করা হয়।

পরে ডিবি উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে রাতভর আটকে রাখা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

টাকা না দিলে তার মেয়ে, জামাই, বাবা ও ভাইকে মাদক মামলায় জড়ানো এবং হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

লুৎফুর নেছা দাবি করেন, ওই ঘটনার অডিও রেকর্ড ও অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট তার কাছে রয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, আতঙ্কের মধ্যে একপর্যায়ে তাকে তিনটি ১০০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। সেখানে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধের শর্ত উল্লেখ ছিল।

পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্বর্ণালংকার বিক্রি, ধারদেনা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা জোগাড় করা হয় বলে জানান লুৎফুর নেছা। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের কাছে সেই টাকা হস্তান্তর করা হয়। এরপরও বাকি টাকা আদায়ে চাপ ও হুমকি চলতে থাকে বলে দাবি তার।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রথমে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয় তাকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মহিউদ্দীন রাজু। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, মো. হাসান নামে এক ব্যক্তি স্বর্ণ-সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিরোধ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তিনি কেবল দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। টাকা আদায় বা নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিরোধ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মো. হাসানের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, স্বর্ণগুলো তার নয়, তার খালাতো ভাই নাহিদের। যদিও এ বিষয়ে নাহিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত