back to top
বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
Single Page Top Banner

রাউজানে ধানক্ষেতে মিলল রক্তাক্ত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের রাউজানে একদিন আগে নিখোঁজ হওয়া স্বপন বড়ুয়া (৫২) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টায় কদলপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়ুয়াপাড়া এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত স্বপন বড়ুয়া উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নেরই বাসিন্দা। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। যে জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকে তার বাড়ি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে।

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বপন বড়ুয়ার মুঠোফোনে একটি কল আসে। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, বাড়ির পাশের একটি দোকানে একজন তাকে ডাকছেন। এ কথা বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ধানক্ষেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বপন বড়ুয়ার কপাল, নাক, হাত ও পিঠে রক্তাক্ত জখম রয়েছে।

গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাসন রক্ষিত বলেন, ‘স্বপন বড়ুয়া আমাদের বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। তাকে সন্ধ্যায় ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। এরপর তার লাশ পাওয়া গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।’

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির শরীরের রক্তাক্ত জখম অন্য কারও আঘাত থেকে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বিষের বোতলও পাওয়া গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের পর ধানক্ষেতে ছটফট করতে গিয়েও তিনি রক্তাক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে একটি টিউবওয়েল রয়েছে। সেখানে লেগেও হয়তো আঘাত পেয়েছেন তিনি।লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ খোরশেদ বলেন, ‘শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে ধারণা করা হচ্ছে বিষপানের পর ছটফট করতে গিয়ে তার শরীরে জখম হয়েছে। ঘর থেকে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত