back to top
মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
Single Page Top Banner

ইবিএল চেয়ারম্যানের যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলার শনাক্ত

যুক্তরাজ্যে অর্থপাচার: শওকত আলীকে ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ

দেশের আলোচিত ও মাঝে মধ্যে সমালোচিত ব্যবসায়ী, ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময় সাপেক্ষ ও জটিল হয়ে পড়লেও শওকত আলীকে সেই অর্থের সমপরিমাণ প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আয়কর আইনের অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদের বিধান প্রয়োগ করে এই জরিমানা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকতের বিদেশে থাকা সম্পদের সমমূল্যের অর্থ দেশেই আদায়ের আইনি পথ তৈরি হয়েছে।

বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) চলতি বছরের ১৫ মার্চ শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই জরিমানার আদেশ দেয়। ওই দিনের ডলার বিনিময় হার অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৩০৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে এলটিইউ।

আয়কর আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি করদাতার আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত নয় এমন বিদেশি সম্পদের সন্ধান মিললে এবং তিনি সেই সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে, ওই সম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করা যায়।

জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে করদাতার সম্পদ বিক্রি বা বাজেয়াপ্ত করেও তা আদায়ের ক্ষমতা রয়েছে আয়কর কর্তৃপক্ষের।

এই অপ্রদর্শিত অর্থের বিপরীতে চলতি বছরের মে মাসে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছেন শওকত। তবে জরিমানার অর্থ এখনো পরিশোধ করেননি বলে জানিয়েছেন এলটিইউ কর্মকর্তারা।

এই জরিমানা এমন সময় এল, যখন যুক্তরাজ্যে শনাক্ত শওকত আলী চৌধুরীর ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) অর্থ ফেরতের আগে প্রমাণ চেয়েছিল যে অর্থটি শুধু বাংলাদেশের আইনেই নয়, যুক্তরাজ্যের আইনেও অবৈধভাবে অর্জিত।

এ নিয়ে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে আট দফা ই-মেইল বিনিময় হয়। কিন্তু এর মধ্যেই চার সপ্তাহের আইনি সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। এই সুযোগে শওকত আলী অর্থটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখান থেকে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা চিঠি দিয়ে বিএফআইইউকে জানিয়েছিল, শওকত আলী চৌধুরীর ২৫ মিলিয়ন ডলার ৪ সপ্তাহের জন্য তারা অবরুদ্ধ করেছে। পাশাপাশি সংস্থাটি শর্ত দিয়েছিল, এই তথ্য বাংলাদেশের অন্য কোন সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না, এমনকি বাংলাদেশের আদালতেও উপস্থাপন করা যাবে না।

বিএফআইইউর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অর্থপাচার-সংক্রান্ত অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘অর্থ উদ্ধারে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে,’  বলে জানান এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, শওকত আলী জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী তার সম্পদ বিক্রি বা বাজেয়াপ্ত করে অর্থ আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দেশের একটি ইংরেজী গণমাধ্যম শওকত আলী চৌধুরীর কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়। তাকে করা জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না এবং ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফেরাতে তিনি রাজি কি না, জানতে চাওয়া হয়। এই শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শওকত আলী কোনো জবাব দেননি।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত