অনলাইনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বেচাকেনা বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডে গ্রাহকরা হারাচ্ছে আস্থার জায়গা। এছাড়া অনলাইন প্লাটফর্মে ব্যবসার জন্য পুঁজি বিনিয়োগের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে দিনদিন।
সম্প্রতি ‘চুড়ি মেলা’ নামের একাধিক পেইজ খুলে এমনই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে নওশীন তাবাসসুম নামের এক রমনীর বিরুদ্ধে৷
‘চুড়ি মেলা’ নামের পেইজ খুলে ভালো মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই নওশীন তাবাসসুমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে এনআই এক্টে দুটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন তাউসিফ নামের একজন ভুক্তভোগী।
দুটি চেকে মোট ১২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার চেক প্রতারণার মামলা চলমান রয়েছে নওশীনের বিরুদ্ধে।
বিগত ৭ জুলাই ২০২৪ সালে চট্টগ্রামের ১ম মেট্রোপলিটন আদালত অভিযুক্ত নওশীন তাবাসসুম এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছিলেন (সিআর মামলা নং ১০২৬/২৪ কোতয়ালী, স্মারক নং ১৫৩২ তারিখ ৯/৭/২৪) ৷ বর্তমানে মামলা দুটি আদালতে চলমান আছে বলে জানান মামলার বাদী তাউসিফ।
ভুক্তভোগী তাউসিফ গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে শখের চুড়িতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত পোস্ট দেখে আমি নওশীন তাবাসসুমের সাথে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে পারিবারিক অর্থ বিনিয়োগ করি৷ বিনিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নওশিন বিনিয়োগের অর্থ ও মুনাফা ফেরত না দিয়ে নানান তাল বাহানা করতে থাকে৷ এক পর্যায়ে নওশিন আমাকে একাধিক চেক প্রদান করে যার মধ্যে আমি দুটি এনআই এক্টে ১২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মামলা দায়ের করি৷ আমার কাছে তার সর্বমোট ১৭ লক্ষ টাকা পাওনা আছে৷
নওশীন তাবাসসুম চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন যেই এপার্টমেন্টে থাকতেন খোঁজ নিয়ে জানা যায় বর্তমানে সেখান থেকে অজ্ঞাত স্থানে সরে যায়৷ উক্ত এপার্টমেন্টের একাধিক ফ্ল্যাটের মালিকেরা বলেন, আমাদের এপার্টমেন্টে নওশীন অস্থায়ী ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন৷ নওশীনের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগে বিভিন্ন পাওনদারেরা এসে এপার্টমেন্টে ঝামেলা সৃষ্টি করতো৷ এক পর্যায়ে আইন শংখলা বাহিনীও তার খোঁজে আমাদের এপার্টমেন্টে এসেছিল৷ এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণে আমরা এপার্টমেন্ট মালিকরা সমিতির মাধ্যমে নওশীন যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতো সেখান থেকে তাকে বের করে দেয়ার স্বিদ্ধান্ত নেই এবং তাকে ফ্ল্যাটটি থেকে অনেক আগেই বের করে দেয়া হয়৷ ফ্ল্যাট মালিকরা আক্ষেপ করে বলেন, “নওশীনকে আমরা অনেক আগেই এপার্টমেন্ট থেকে বের করে দিলেও আমাদের নাম্বারে বিভিন্ন সময় তার খোঁজে ফোন কল আসে৷ বিষয়টি আমাদের জন্য বেশ আপত্তিজনক হয়ে পড়েছে৷”
খোজ নিয়ে জানা যায় “চুড়ি” নাম দিয়ে অনেক পেইজ খুলে প্রতারণা চালিয়েছিলেন এই নওশীন৷ প্রতিটি পেইজ খুলে প্রতারণা সম্পন্ন হলে সেই পেইজটি বন্ধ করে দেন তিনি৷ একই ভাবে নিত্য নতুন মোবাইল নাম্বারও ব্যবহার করতেন এবং যথারিতি এসব নাম্বার ব্যবহার করে প্রতারণা সম্পন্ন করে সেই নাম্বার গুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়৷ এই প্রতিবেদকের হাতে নওশীন, তার ভাই ও বোনের ডজন খানেক নাম্বারের তথ্য এসেছে যার মধ্যে নওশীনের ভাই মুনতাসির আরমানের মোবাইল নাম্বারটি স্বচল আছে৷ যদিও সেই নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি৷ তার বোনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক এসএমএস পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি৷
অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবারও নিত্য নতুন পেইজ খুলে সক্রিয় হয়েছেন নওশীন৷ ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাত করে আইনের ফাঁক ফোঁকড়ে বেরিয়ে আসে এসব প্রতারক চক্র।


