চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন আমবাগান রেলগেট এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শুরু হওয়া দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা প্রায় ঘন্টা ব্যাপি চলে৷ এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে জামায়াতের সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির মনোনীত প্রার্থী অভিযোগ তুলে হামলাকারীদের ধরতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি’র অভিযোগ জামায়াত কর্মীরা তাদের স্থানীয় একটি কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে৷
এই বিষয়ে সিএমপি’র উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে যে তাদের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। লিখিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে৷
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চট্টগ্রাম–১০ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী তার নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার অভিযোগ তুলেন। তাঁর দাবি, ২৭ জানুয়ারি বাদ এশা আমবাগান এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে হঠাৎ একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা তার দলীয় সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, দুই দিন আগেও আমাদের নারী প্রচারণা টিমের ওপর ন্যাক্কার জনক হামলা চালানো হয়েছিল৷ আজ দুপুরে আমাদের এক কর্মীর ওপর হামলা চালায় স্থানীয় চিহ্নিত একটি গ্রুপ৷ তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে সার্বিক বিষয় অবহিত করেছিলাম৷ এর মধ্যেই আবার আমাদের ওপর কেবল হামলাই হয়নি হামলার শিকার সমর্থকদের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে৷ তিনি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান৷
আহত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হলেন- এরশাদ উল্লাহ, গোলাম মঞ্জুর মোরশেদ, বারাকাত উল্লাহ, মো. বাহার, জসিম উদ্দিন, মহিবুল্লাহ ও মো. আরিফ।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বলছে, জামায়াত সমর্থকরাই তাদের অফিস ভাঙচুর করেছে। সরেজমিন বিএনপি কার্যালয় ঘুরে সবকিছু লণ্ডভণ্ড অবস্থায় দেখতে পাওয়া গেছে৷ অফিসের আসবাবপত্র ও মালামাল ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে৷ সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবি মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখা গেছে৷


