বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার একুশে পদক পেয়েছেন ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি ব্যান্ড দল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ী এবং তাদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন চার লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একুশে পদক দেওয়া হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি এবারের একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। খবর বিডিনিউজের।
শিল্পকলার চলচ্চিত্র অঙ্গনে ফরিদা আখতার ববিতা, চারুকলা অঙ্গনে অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, নৃত্যে অর্থি আহমেদ, পালা গানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবার একুশে পদক পেয়েছেন। সংগীতে মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। তার পক্ষে পদক নেন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। ব্যান্ড দল ওয়ারফেজ এবছর একুশে পদক পেয়েছে। দলটির প্রধান শেখ মনিরুল আলম পদক গ্রহণ করেন। সাংবাদিকতায় একুশে পদক পেয়েছেন শফিক রেহমান এবং শিক্ষায় অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেওয়ার আগে তাকে লাল গোলাপ উপহার দেন শফিক রেহমান।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আবু নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমান ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা যা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণত ভাষা আন্দোলন, শিল্প–সংস্কৃতি, শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই গুণীজনদের কাজের স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি শুধু একটি পদকই নয়, বরং এই পদকের মধ্য দিয়ে ৫২–এর ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে স্মরণে আনার পাশাপাশি যেসব বিজ্ঞজন শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, গবেষণা চর্চায় নিজেদের এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুরুতে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পুরস্কার ‘একুশে পদক’ এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ কমপক্ষে ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অর্জন।


