back to top
মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬
Single Page Top Banner

নিহতের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে

বাহরাইনে ড্রোন হামলায় নিহত : সেহেরিটা আর খাওয়া হলো না প্রবাসী তারেকের

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ভোররাতে উঠে সেহেরি খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাহরাইন প্রবাসী তারেক ও তার সহকর্মীরা। হঠাৎ জাহাজের মধ্যে বিকট একটা শব্দ হয়। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল তারেকের। তার পরিবার হারিয়ে ফেললো প্রিয় মানুষ এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে। মার্কিন নৌ ঘাটিকে লক্ষ করে ইরানের ছোড়া ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মো.তারেক (৫৫)। গতকাল রাত আনুমানিক ৫ টায় (বাহরাইন সময় রাত ২টায়) বাহরাইনের ‘আল হিদ ড্রাইডক’ এলাকায় অবস্থিত আরব শিপবিল্ডিং অ্যান্ড রিপেয়ার ইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে। শিপইয়ার্ডটি মিনহাজ সালমান এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটির পাশেই অবস্থিত বলে জানা গেছে।

নিহতের সহকর্মী ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের সময় তারেক ‘স্টেনা ইম্পেরেটিভ’ নামের একটি জাহাজে মেরামতকাজে নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণে কর্মস্থল কেঁপে ওঠে। ড্রোনের ভাঙা অংশ ছিটকে এসে তার শরীরে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় আরো দুই থেকে তিনজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সন্দ্বীপের মুছাপুর এলাকার আজিম ভূঁইয়ার বাড়ির নাজিম উদ্দিন (৪০) রয়েছেন। অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নিহতের জেঠাতো ভাই নুর হোসেন বেলাল জানান, বিস্ফোরণের সময় কর্মীরা সেহরি খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমি তারেকের সামান্য দূরে কর্মরত ছিলাম, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাজের ভেতরে ড্রোনের ছিটকে পড়া অংশ দেখতে পাই।

নিহত তারেক সন্দ্বীপের আজিমপুর এলাকার পাহাড়েরগো বাড়ির মৃত ছায়েদুল হকের ছেলে। তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে তারেক বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। তার পরিবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর বউবাজার আমতলী এলাকায় বসবাস করছে।  তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত