back to top
বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
Single Page Top Banner

সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ’র “মাস্টার স্ট্রোক” : রাঘব বোয়ালরা একে একে ধরা

বিশেষ প্রতিনিধি

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশের মনোবল যখন তলানিতে, চট্টগ্রাম নগরীর আইনশৃংখলা যখন চরম অবনতির পর্যায়ে নেমে আসে তখন ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৩৩তম কমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন হাসিব আজিজ বিপিএম। দৈনন্দিন রুটিন কাজ পরিচালনার পাশাপাশি প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া সিএমপি’র একাধিক থানাকে দ্রুত স্বচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একদিকে থানা পুলিশের অস্ত্র লুন্ঠিত হয়ে যাওয়া সেই সাথে ছিল পরিবহন সংকট, অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা এই দুই পরিস্থিতিকে মুকাবিলা করাই ছিল বেশ জটিল৷

পুলিশের লজিস্টিক স্বল্পতার সুযোগে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ একের পর নানান অপরাধ কর্মকান্ড সংঘটিত করে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে তুলেছিল৷ হত্যা, চাঁদাবাজি আর গোলাগুলির ঘটনা নগরবাসিকে এক ভীতিকর পরিস্থিতির মাঝে ফেলে দেয়। সেই সময় বেশ ঠান্ডা মাথায় অপরাধ দমনের ছক আঁকতে থাকেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ৷ নানান সংকটের মাঝে পুলিশ বাহিকীকে ঘুরে দাঁড়করানোর পাশাপাশি সন্ত্রাস দমনে শুরু করেন গোপন মিশন৷

একের পর অপরাধ সংঘটিত করেও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে ছিলো চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ৷ অত্যান্ত সুকৌশলে সেই ছোট সাজ্জাদকে ২০২৫ সালের ১৫ই মার্চ রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মল থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ৷ এই পুলিশ প্রক্রিয়াকে নির্ভীক মনিটরিং করেন স্বয়ং সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ৷ এরপর পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে একের পর সন্ত্রাসী অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার অব্যাহত রাখে সিএমপি।

চট্টগ্রামে আলোচিত এইট মার্ডার।

সিএমপি কমিশনারের মাস্টার স্ট্রোক : মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমন৷ সময়ের সাথে এই কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সাজা প্রাপ্ত ভয়ংকর অস্ত্রবাজ এই মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমন লোক চক্ষুর আড়ালে চলে যায়৷ সূত্র বলছে, বহদ্দারহাটে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ৮ জনকে একত্রে হত্যা মামলার (চান্দগাঁও থানার মামলা নং-০৮(০৭)২০০০, ধারা- ৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোড) যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এই কাইয়ুম প্রকাশ রিমন ওরফে ইমন৷ জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের একাধিক হত্যাকান্ড সহ অস্ত্রবাজির মূল নেতৃত্বে ছিলেন এই কাইয়ুম প্রকাশ রিমন ওরফে ইমন৷ সর্বশেষ অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে শিল্পপতির বাসভবন লক্ষ্যকরে গুলিবর্ষনের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন এই সন্ত্রাসী৷ অপরাধ জগতের ছোট সাজ্জাদের সহযোগী একাধিক হত্যা মামলার আসামী ইমনের নাম ও ছবি বহুল প্রচারিত হলেও আসল নাটেরগুরু ছিলেন এই কাইয়ুম প্রকাশ রিমন ওরফে ইমন৷ ধারণা করা হচ্ছে সেই ইমনের নাম প্রকাশ পেলেও প্রায় সকল ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলো কাইয়ুম ওরফে ইমন৷ এইট মার্ডারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত সাজাপ্রাপ্ত কাইয়ুম এতোটাই নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন যে সাম্প্রতিক সময়ে কোন সংবাদ মাধ্যমেও তার নামটি প্রকাশ পায়নি৷ এমনকি তার কোন ছবিও আর্কাইভে পাওয়া যায়নি৷

সবার চোখে ধূলো দিয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখতে পারলেও সিএমপি কমিশমার হাসিব আজিজের রেড লিস্টে ঠিকই ছিলেন কাইয়ুম প্রকাশ রিমন ওরফে ইমন। সম্প্রতি সিএমপি “অপারেশন এস ড্রাইভ” নামের যে অভিযাম শুরু করেছিলো অনেকেই এটাকে ভেবেছিল কেবল ঢাকঢোল পিটিয়ে নামে মাত্র গতানুগতিক অভিযান৷ তবে এই অভিযানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার৷ যার প্রতিফলন দেখা গেছে গতকাল (১০ মার্চ)। সিএমপির পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম নির্দেশনায় এবং ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) এর নেতৃত্বে দিবাগত রাতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস্), ডিসি (দক্ষিণ) এবং ওসি (চকবাজার) সহ চকবাজার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমনকে গ্রেফতার ও তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চকবাজার থানা এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার (থ্রি টু বোর) ও ০৯ (নয়) রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন। উক্ত উদ্ধারকৃত রিভলভার ও গুলি সিএমপির পাহাড়তলী থানা হতে লুণ্ঠিত হয়েছিল মর্মে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই কাইয়ুম শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী।

আরও যারা গ্রেফতার :
গ্রেফতারকৃত আসামী কাইয়ুম @ রিমন ওরফে ইমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডিসি (উত্তর), সিএমপি, ওসি (পাঁচলাইশ) সহ পাঁচলাইশ থানার অপর একটি চৌকস দল ১০ মার্চ তারিখ দিবাগত রাতে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস (নাইন এম এম) পিস্তল এবং ০১টি মোটর সাইকেলসহ আসামি মনিরকে গ্রেফতার করে। জানা গেছে উক্ত উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা হতে লুণ্ঠিত হয়েছিল। আসামি মনিরের দেওয়া তথ্য মতে ১০ মার্চ ভোরে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে তার সহযোগী সায়েমকে গ্রেফতার করা হয়। সায়েমের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকা হতে ০১ (এক) টি এসএমজি, ০২ (দুই) টি ম্যাগাজিন এবং ৫০ (পঞ্চাশ) রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এই অস্ত্র ও গুলি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের নিকট থেকে কিনেছে মর্মে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

আসামি মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে সর্বমোট ১০ (দশ) টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমন এর কাছ থেকে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্য রিক্রুট সংক্রান্ত শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রত্যেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। আসামি মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমন সম্প্রতি চন্দনপুরায় ব্যবসায়ীর বাড়ীতে সংঘটিত গুলির ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিল। সে পর্দার অন্তরালে থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের গ্রুপ ও অস্ত্রভান্ডার নিয়ন্ত্রণসহ সকল চাঁদাবাজি এবং খুনের মুখ্য পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা উদ্ধারকৃত তিনটি অস্ত্র উক্ত ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে জানায়। বিষয়টি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের অপরাপর সহযোগীদের গ্রেফতারসহ আরো অস্ত্র গুলি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত