বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’র চেয়ারপার্সন এ্যাডভোকেট এলিনা খাঁন বলেছেন, আইনপ্রয়োগকারি সংস্থা আন্তরিক হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের হার কমে আসবে। বিনা বিচারে মানুষ হত্যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। মব তৈরি করে মানুষ হত্যার উৎসব চলছে। মানবাধিকার কর্মীগণ মানুষকে সচেতন করতে হবে তবেই মব তৈরি বন্ধ হবে। তিনি আরো বলেন, মানুষ বোঝাতে হবে মানবাধিকার রক্ষা কোনো স্লোগান নয়, বরং এটি একটি চলমান দায়িত্ব। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে মানবাধিকারের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। তিনি বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন কুমিল্লা মহানগর শাখা কমিটির আয়োজনে “প্রশাসন, আইনবিদ, মানবাধিকার কর্মী ও অন্যান্যদের ভূমিকা” শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় অবস্থিত জমজম টাওয়ারের হোটেল গ্র্যান্ড ক্যাসেল এন্ড রেস্টুরেন্টে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহসান বলেন, দেশে এখনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনা ঘটছে। এসব প্রতিরোধে আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকারকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি মো. হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নাছির আহম্মেদ মোল্লা।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট বদিউলের আলম সুজন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কুমিল্লা মহানগর শাখার সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক সহিদ উল্লাহ মিয়াজী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বশিরুল আনোয়ার, ডা. টুন্টু কুমার চক্রবর্তী, ইন্সপেক্টর সাদিকুল আনোয়ার, সাংবাদিক মাসুক আলতাফ চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, জহিরুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন, এ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী, সাংবাদিক অশোক কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।
কর্মশালায় প্রশাসনের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মানবাধিকার রক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, মানবাধিকার নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর যথাযথ প্রয়োগ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিও অপরিহার্য। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।


