back to top
শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
Single Page Top Banner

বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি

ঔষধি গাছে ভরপুর প্রাকৃতিক হাসপাতাল খ্যাত সিআরবিতে যান্ত্রিক হাসপাতাল নির্মান করা যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিআরবিতে নতুন করে প্রাইভেট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সর্বাত্বক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ। আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম হাসপাতাল এলাকা পরিদর্শনে ঘোষণা দেয়ার পর থেকে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাসপাতাল নির্মান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার দাবীতে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকগণ।

বিবৃতিদাতারা হলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, একুশে ও বাংলা একাডেমি পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক, কবি ও প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন, চুয়েট ভিসি (প্রাক্তন) প্রফেসর মোজাম্মেল হক, সিডিএ বোর্ড সদস্য ও নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, স্থপতি সুভাষ বড়–য়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিআরবি রক্ষা মঞ্চের আহবায়ক ডাক্তার মাহফুজুর রহমান, সুজন চট্টগ্রাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী, নগর বিশেষজ্ঞ ও ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, বাংলা একাডেমি পুরুস্কার প্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ, সাংবাদিক ও কবি ওমর কায়সার, চট্টগ্রাম রিপোটার্স ফোরাম সভাপতি সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও বেলা নেটওয়ার্ক মেম্বার সাংবাদিক আলীউর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা চট্টগ্রাম সমন্বয়ক মনিরা পারভিন রুবা, পরিবেশ সংগঠন গ্রিন ফিংগার্স সহ প্রতিষ্ঠাতা আবু সুফিয়ান, রিতু পারভিন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়,
২০০৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) সিআরবি কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে চিহ্নিত। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি যা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
ড্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিআরবির কোনো অংশ ব্যবহার করা যাবে না এবং এখানে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পাখির অভয়ারণ্য, জাদুঘর, প্রজাপ্রতি উদ্যান প্রতিষ্ঠা করা যাবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক রাসেলের নেতৃত্বে বেসরকারি সংস্থা ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপিনিয়ন (ইকো) গবেষণায় সিআরবিতে ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ১৮৩টি ঔষধি গাছ। গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ ৩৪ প্রজাতির। লতাজাতীয় উদ্ভিদ ২২ প্রজাতির। বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ৯টি। ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে—এ রকম উদ্ভিদ ৬৬টি। এলাকাটিতে বড় বৃক্ষ রয়েছে ৮৮টি। যার মধ্যে শতবর্ষী গর্জন ও শিরীষ আছে।
ঔষধি গাছ ক্যানসার, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, জন্ডিস, অর্শসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যে কারনে সিআরবি এলাকাটি নিজেই যেন একটি ‘প্রাকৃতিক হাসপাতাল’। এখানে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে এসব ঔষধি গাছের বেশির ভাগ ধ্বংস হবে।
প্রাকৃতিক বৈশিষ্টের কারনে ঢাকার মতো চট্টগ্রামে রমনা পার্ক বা সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের মতো উন্মুক্ত স্থান নাই। উন্মুক্ত স্থানে শ^াস নেয়ার মতো চট্টগ্রামে সিআরবি এর বিকল্প নাই। প্রাকৃতিক বৈচিত্র এবং উন্মুক্ত স্থান হিসেবে চট্টগ্রামবাসী সিআরবিকে চট্টগ্রামের ফুসফুস বলে।

সিআরবি’র উন্মুক্ত স্থান ধ্বংস করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মান চট্টগ্রামবাসী কখনও মেনে নিবে না। তাছাড়া প্রস্তাবিত হাসপাতালের জায়গা নির্ধারনের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। কদমতলী মোড়ের পে অ্যান্ড ক্যাশ এলাকার ভূমি তফশিল দিয়ে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা বলে তা সিআরবিবে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিবৃতি দাতার উল্লেখ করেন, ড্যাপ ঘোষিত এলাকায় বহুতল বাণিজ্যিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, ওয়াসার ছাড়পত্র দেয়ার সুযোগ নাই। এই স্থানে সিডিএ ভবন নকশার অনুমোদন দিতে পারবে না। উপরোক্ত বিবেচনায় সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মান পুরোপুরি বন্ধ করা অত্যাবশ্যক।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত