back to top
বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
Single Page Top Banner

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে ২৭ হাজার টন তেলবাহী জাহাজ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছালো।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের ট্যাংকারটি গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। জাহাজটি নোঙর করার পর একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ডিজেল খালাসের কাজ শুরু করা হয়।

এর আগে গত সোমবার ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি জাহাজ প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছিল। পরপর দুটি চালান আসায় দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও তিনটি ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের একটি ট্যাংকার ১২ মার্চ প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে।

এ ছাড়া ১৩ মার্চ ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি জাহাজেই আনুমানিক ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল থাকবে। বিভিন্ন এশীয় দেশ থেকে আমদানি করা এই পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে যুক্ত হবে।

বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ ডিজেল বর্তমান ব্যবহারের ধারা ধরে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। তবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার গত রবিবার থেকে প্রতিদিনের সরবরাহ কমিয়ে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে।

সরবরাহ সীমিত রাখার এই নীতি অব্যাহত থাকলে নতুন আসা জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে যে মজুত রয়েছে, তা দিয়েও আরও ১৬ থেকে ১৭ দিনের প্রয়োজন মেটানো যাবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে নতুন চালানগুলো যুক্ত হলে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণের মতো মজুত নিশ্চিত হতে পারে।

বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম জাহাজ পৌঁছানোর পরপরই খালাস কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় জাহাজের কাজও চলছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাকি জাহাজগুলো পৌঁছালে জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধারাবাহিকভাবে নতুন চালান দেশে পৌঁছানোয় বাজারে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ও আতঙ্ক অনেকটাই কমবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিপিসি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত