মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে ঘোনাপাড়ায় জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত মোহাম্মদ নেছার (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। নয়দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাপলাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুকবেখি ঘোনাপাড়া এলাকায় একখণ্ড জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ওই জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গত ৪ মার্চ রাত আনুমানিক দুইটার দিকে সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, মোহাম্মদ হোসেন ও আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ও এলোপাথাড়ি মারধরে নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে মিস্ত্রি মোহাম্মদ নেচারের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানোর ফলে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। প্রথমে মহেশখালী ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউ’তে প্রেরণ করা হয়েছিল। পরে সেখানেই শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়।
নেছারের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পরলে শাপলাপুরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ স্বজনরা হামলাকারীদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং বিরোধপূর্ণ জমিটি নিজেদের দখলে নেয় বলে জানা গেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলতান জানান, নেচারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আগে যে মামলাটি হয়েছিল, সেখানে এখন হত্যা মামলার ধারা যুক্ত করা হবে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।


