মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনাকে ধারণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা এবং তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণের এক ব্যতিক্রম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামে। নগরীর হালিশহর এলাকার জে.পি কনভেনশন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে খালি ডায়েরি—যেখানে তাঁরা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্ন লিপিবদ্ধ করবেন।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন সাঈদ আল নোমান এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাঈদ আল নোমান।
সভায় বক্তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে হলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু তাঁদের অনেক অভিজ্ঞতা এখনও অজানা থেকে যাচ্ছে। আমরা চাই, তাঁরা নিজেরাই তাঁদের গল্প লিখে যান।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে একটি করে ডায়েরি দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁরা তাঁদের যুদ্ধদিনের স্মৃতি, কষ্ট, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের কথা লিখবেন। পরে এসব লেখা সংগ্রহ করে একটি বা একাধিক গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করা হবে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।”
সভাপতির বক্তব্যে এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কখনো শোধ করার নয়। তবে তাঁদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের কথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এই উদ্যোগ সেই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. ছিদ্দিক আহম্মেদ, এম এ সবুর, শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তা মানুষের জীবন্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকেই এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। তাঁদের মতে, এভাবে স্মৃতি লিপিবদ্ধ করা হলে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার তৈরি হবে, যা দেশের ইতিহাস গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকেরা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে সংগৃহীত এসব ডায়েরি সম্পাদনা করে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে মুক্তিযুদ্ধের অজানা অনেক দিক উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে আসা বাংলাদেশে, এমন উদ্যোগ নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—ইতিহাস শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, তা সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেওয়ারও দায়িত্ব।


