চট্টগ্রামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ব্যাংকটির সাবেক দুই পরিচালককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন- ইউসিবিএলের সাবেক পরিচালক অপরূপ চৌধুরী (৬৫) ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬)। তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন বলেন, ‘মামলার দুই আসামি আজ আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংকের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছিল, ঋণ প্রস্তাবটি নিরাপদ নয়। এজন্য তারা ১৭টি নেতিবাচক কারণ জানিয়েছিল। তারপরও সেসময়ের বোর্ড অব ডিরেক্টর প্রতিবেদন বিবেচনায় না নিয়ে ঋণ অনুমোদন দিয়েছিল।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদুল আলম বলেন, ‘আজ দুজন আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন। উনারা ইউসিবিএলের স্বাধীন পরিচালক ছিলেন।
আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন। উনারা ইউসিবিএলের স্বাধীন পরিচালক ছিলেন। অপরূপ চৌধুরী সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং তৌহিদুল সিপার অন্য একটি বিদেশি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। তারা স্বাধীন পরিচালক হিসেবে ইউসিবিএল এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।’
ইউসিবিএল ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের করা এই মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে গত ১১ মার্চ একই আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। সেদিন গ্রেপ্তার থাকা ৮ আসামি ছাড়া বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ৫ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা আছে। সেদিন বাদির সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম এই মামলায় দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।
তার আগে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেয় মামলার তদন্তকারী দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান।
মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়।
সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে এটা দুদকের দেওয়া ‘প্রথম’ অভিযোগপত্র এটি।


