back to top
শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২৬
Single Page Top Banner

পাওনাদারদের বিরুদ্ধে এস এ গ্রুপের এমডি'র মামলাবাজি ?

এস.এ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি’র বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কামরুজ্জামান রনি, বিশেষ প্রতিনিধি।

মানহীন গুড়ো দুধ বিক্রেতা, ব্যাংক খেকো, অর্থ আত্মসাতকারী, ঋণ খেলাপি এসব খেতাব ইতিপূর্বেই নিজের করে নিয়েছেন চট্টগ্রাম ভিত্তিক এস এ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’র এমডি শাহাবুদ্দিন আলম। আজকের অনুসন্ধানে আমরা তুলে ধরবো কিভাবে পাওনাদারদের অর্থ আত্মসাৎ করতে নিজের কথিত লিগ্যাল ম্যানেজার ও একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়ে “গায়েবী” ঘটনায় মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন শাহাবুদ্দিন আলম। আজকের প্রতিবেদনে আমরা শাহাবুদ্দিন গং এর মিথ্যা মামলাবাজির অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করবো৷

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এম হোসেন এন্ড ব্রাদার্স এই এস এ গ্রুপের বিরুদ্ধে পাওনা টাকা আদায়ে আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন এবং আরও কয়েক ডজন চেকের মামলা প্রক্রিয়ায় আছে৷ ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় জারি হয় ওয়ারেন্ট৷ তবে বিপুল অর্থের জোরে বরাবরের মতোই অধরাই থেকে যান এস এ গ্রুপের এমডি শাহাবুদ্দিন ও তার পরিবার৷ এখানেই শেষ নয়, এবার উল্টো পাওনাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে নিজের প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল ম্যানেজার প্রদীপ কুমার ধর ও একাধিক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মামলাটি করে। আর এই মামলা করার ক্ষমতা প্রদীপ কুমার দেবকে লিখিত ভাবে প্রদান করেন খোদ এস এ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি শাহাবুদ্দিন আলম৷ অর্থাৎ মালিকের হুকুমেই মামলাটি দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

আর অতি গোপনে সেই নাটক সাজানো হয় মর্মে অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৭১ কিলোমিটার দূরের কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেকে অবস্থিত “টুপটুপ রেস্তো এন্ড রিসোর্টে৷

মার্চ মাসের ৫ তারিখে কক্সবাজার চীফ জুড়িশিয়াল আদালতে দায়ের করা মামলার ঘটনাস্থলে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ইনানী সংলগ্ন টুপটুপ রেস্তো এন্ড রিসোর্টের কথা৷ আর ঘটনার তারিখ ও সময় উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা৷ মামলার বাদি এস এ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল ম্যানেজার প্রদীপ কুমার দেব৷ অভিযোগে বলা হয়েছে এস এ গ্রুপের লিগ্যাল এডভাইজার প্রদীপ কুমার দেব, জিএম (ল্যান্ড) মোঃ দিদারুল ইসলাম এবং জিএম (ফাইন্যান্স);ইসমাঈল খান টুপটুপ রিসোর্টের লবিতে অবস্থানকালে আসামীরা তাদের প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে৷ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে৷ যারা এস এ গ্রুপ থেকে শত কোটি টাকা পায় সেই পাওনাদারদের বিরুদ্ধে এমন মামলার সত্যতা অনুসন্ধানে আমরা মাঠে নামি৷ অনুসন্ধানে প্রথমেই পাওনাদার পরিবারের সদস্য এবং কক্সবাজারে দায়ের করা মামলার আসামী মোঃ আলম, মোঃ হোসেন ও মোঃ ইমরানের মোবাইল লোকেশন বের করা হয়৷ ঘটনার সময় যাঁরা সবাই চট্টগ্রাম শহরেই অবস্থান করছিলেন তাদেরকেই দেখানো হচ্ছে কক্সবাজারের ইনানী সৈকত সংলগ্ন এলাকায়৷ একই সময় একই ব্যক্তি দুটি জেলায় থাকার কথা না হলেও প্রতিবেদক আরো নিশ্চিত হতে ছুটে যায় কক্সবাজারের পটুয়ারটেকের সেই টুপটুপ রেস্তো এন্ড রিসোর্টে৷

গত ৩১ মার্চ এই প্রতিবেদক সরেজমিন কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেকে অবস্থিত “টুপটুপ রেস্তো এন্ড রিসোর্টে৷ ম্যানেজার জানান, “রমজান মাস শুরুর আগেই আমরা স্যোসাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন বুকিং প্লাটফর্মে জানিয়ে দিয়েছিলাম আমাদের প্রতিষ্ঠান রক্ষনাবেক্ষনের জন্য বন্ধ থাকবে৷ যেহেতু আমাদের রিসোর্ট ও রেস্তোরা বন্ধই ছিল সেখানে আমাদের রিসিপশনে (মামলায় সেটিকে লবি উল্লেখ করা হয়েছে) কোনো গেষ্টই থাকার সুযোগ নেই৷” আশেপাশে কোথাও এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি৷” টুপ্টুপ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ উষ্মা প্রকাশ করে আরও বলেন, আমাদের রিসোর্টের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে আদালতে অসত্য তথ্য দিয়ে মামলা করায় আমাদের রিসোর্টের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে৷ প্রয়োজনে তারা আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান৷

এবার আমরা মুঠোফোনে যোগাযোগ করি মামলার বাদি ও নিজেকে সেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত দাবী করা লিগ্যাল ম্যানেজার প্রদিপ কুমার ধরের সাথে৷ তিনি প্রতিবেদকের সাথে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আদালতে মামলার নথি আছে, যেহেতু আপনাদের কাছেও মামলার কপি আছে তাহলে সেখানে সব পাবেন এর বেশী আমি কিছু বলতে চাই না৷

এই তথ্য প্রমানের পর এটা অন্তত পরিষ্কার কক্সবাজার চীফ জুড়িশিয়াল আদালতে ১৬৬/২০২৬ (উখিয়া) মামলাটি অসত্য বানোয়াট তথ্য দিয়ে দায়ের করা। আইনের প্রতি নুন্যতম শ্রদ্ধা ও ভীতি না থাকলে যা হয় এক্ষেত্রে সেটিই হয়েছে৷ নানান অসাধু পন্থায় বিপুল অর্থের দাপটে তারা বছরের পর বছর আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেছে আর চলমান রেখেছে তাদের অপকর্ম৷ কিন্তু চোরের দশদিন আর গেরস্তের ১ দিন বলে একটা কথা আছে৷ এবার তাদের অপকর্ম ঠিকই ধরা পরলো৷

ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করছে বিপুল অংকের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো পাওনাদারদের মামলায় ফাঁসিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করতে এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেছে এস এ গ্রুপের এম ডি শাহাবুদ্দিন আলম ও তার পোষ্য ব্যক্তিরা৷ ইতিপূর্বে এই গ্রুপের কর্তাব্যক্তিদের দ্বারা চরম ভাবে নাজেহালের কারণে এম হোসেন এন্ড ব্রাদার্সের কর্ণধার মোঃ ইব্রাহিম স্ট্রোক করে এখনও শয্যাশায়ী। এই পরিবারের সদস্য মোঃ আলম এখনই সময়কে বলেন, আমরা ১০০ কোটি টাকা পাই৷ আমাদের তেলের ডিও দিয়ে যথা সময়ে তেল সরবরাহ না করে এক প্রকার প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে৷ এরপর পাওনা টাকা পরিশোধের শর্তে চেক দেয়। কিন্তু সেই সময় সীমা পেরিয়ে গেলেও আমরা আমাদের পাওনা টাকা না পেয়ে আদালতে একাধিক মামলা করি৷ সেসব মামলায় গ্রুপের এমডি শাহাবুদ্দিন আলম তার মা, স্ত্রী সন্তানরা আসামী হওয়ায় তিনি আমাদের ওপর প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে পবিত্র রমজান মাসে সম্পূর্ণ বানোয়াট তথ্য দিয়ে কক্সবাজার আদালতে আমাদের তিনজনের বিরুদ্ধে হয়রানী মূলক মামলা করে৷

মোঃ আলম আরো বলেন, আমাদের শত কোটি টাকা শাহাবুদ্দিন আলমের পকেটে৷ তিনি সেই টাকার লাভ দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়কে ম্যানেজ করে দিব্যি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন আর আমরা আজ পথে বসার মতন পরিস্থিতে এসে দাঁড়িয়েছি৷ এম হোসেন এন্ড ব্রাদার্স’র পরিবার এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

এদিকে অনুসন্ধান বলছে এমন কোন অপকর্ম নেই যা এস এ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি শাহাবুদ্দিন আলম করেনি৷ বিগত সরকার আমলে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সে গুলোও খেলাপি হয়েছেন৷ ২০১৮ সালেই তার বিরুদ্ধে ১২০টি মামলা ছিল যা এখন আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ সর্বশেষ গোয়ালিনী মিল্ক পাউডারে যথাযথ মাননিয়ন্ত্রন না করায় ঐ ব্রান্ডের সকল দুধ বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ দেন আদালত৷ দুধে যে পরিমান ফ্যাট ও প্রোটিন থাকার কথা আর চেয়েও অনেক কম মানের দুধ বাজারে ছাড়ে এস এ গ্রুপেরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান৷ এছাড়া ঋণ খেলাপির দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন এই বিতর্কিত শিল্পপতি৷ ইতিমধ্যে এই এস এ গ্রুপের আরো বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমান এসেছে প্রতিবেদকের হাতে যা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান৷ সকল তথ্য প্রমান নিয়েই প্রকাশিত হবে ” এস এ গ্রুপের শাহাবুদ্দিন আলম গং এর অন্ধকার জগৎ নামের একাধিক পর্বের প্রতিবেদন৷

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত