back to top
বুধবার, মে ২০, ২০২৬
Single Page Top Banner

মাজারে কোরআন ছুঁয়ে শপথ: স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে এলডিপিতে যোগ দেয় চন্দনাইশের জসিম

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

আওয়ামী লীগের আমলে পুরোদস্তুর আওয়ামী সমর্থক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫ আগস্টের পর এলডিপি’র কর্ণেল (অব.) অলি আহমদের গুণ কীর্তনের মশগুল থাকা জসিম রাতারাতি বিএনপি’র মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়া ছিল সবার কাছে এক বিষ্ময়কর ঘটনা৷ বিএনপি’র টিকেটে এমপি নির্বাচির হয়ে জসিম এখন চন্দনাইশে এলডিপি বিলুপ্তের ঘোষনা দেন৷

অথচ ৫ আগস্টের পর এই জসিম উদ্দিন আমিন উল্লাহ মাজারে উপস্থিত হয়ে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করে এলডিপিতে যোগ দিয়েছিলেন৷ তাঁর এলডিপি তে যোগ দেয়ার বিস্তারিত বিবরণ ও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গিকারের তথ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন এলডিপি নেতা ওমর ফারুক৷ সেই সাথে তাকে দেয়া বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে রেখেছেন বেশ কিছু প্রশ্ন৷ পাঠকের জন্য সেই স্টাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো৷

যিনি ১০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে এলডিপিতে আশ্রয় চেয়ে নিজেই যোগদানের অঙ্গীকার করেন; আমিন উল্লাহ মাজারে উপস্থিত হয়ে আল্লাহর নাম স্মরণপূর্বক পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম মহোদয়, তাঁর পরিবার এবং এলডিপির বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রচার বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার শপথ করেন—তাকে কীভাবে বিএনপি তাদের ধানের শীষের প্রার্থী করলো?

আর আজ তিনি চট্টগ্রাম-১৪ এলাকায় এলডিপি বিলুপ্তির ঘোষণা দিচ্ছেন কোন নৈতিক ও রাজনৈতিক যোগ্যতায়?

১০ আগস্ট ২০২৪-এ এলডিপিতে যোগদানের সময় তিনি নিজের অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক, আর্থিক উৎস, কর-সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং বর্তমানে বিভিন্ন মহলে প্রকাশিত তথ্য সম্পর্কে কী জানিয়েছিলেন—আর কী গোপন করেছিলেন—সে প্রশ্ন আজ সামনে এসেছে।

তখন নিজেকে “ধোয়া তুলসী পাতা” হিসেবে উপস্থাপন করলেও পরবর্তীতে তার প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান, আর্থিক উৎস এবং বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।

যখন এসব প্রশ্ন সামনে আসতে থাকে, তখন এলডিপির প্রধান স্বাভাবিকভাবেই তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা বিতর্কিত বিষয়ের দায় নিতে রাজি হননি। কারণ কোনো ব্যক্তি যদি তথ্য গোপন করে কোনো দলে প্রবেশ করে, তার ব্যক্তিগত আর্থিক, আইনি বা নৈতিক দায় সেই দলের ওপর বর্তায় না।

এখন এটি শুধু একজন ব্যক্তির দলবদলের প্রশ্ন নয়; এটি বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক নীতি, আদর্শিক সামঞ্জস্য এবং স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের জনগণ জানতে চায়—

একজন স্বঘোষিত এলডিপি সদস্যকে বিএনপি কেন মনোনয়ন দিল?

বিএনপির স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা কি তাহলে অযোগ্য ছিলেন?

দলবদল, সুবিধাবাদ, অর্থবল এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের রাজনীতিই কি এখন মনোনয়নের প্রধান যোগ্যতা?

আর যদি তিনি সত্যিই বিএনপির আদর্শের মানুষ হন, তাহলে এলডিপিতে যোগদানের অঙ্গীকারনামা, শপথ, অতীত রাজনৈতিক অবস্থান, আর্থিক উৎস এবং তার বিরুদ্ধে প্রচলিত অভিযোগের ব্যাখ্যা জনগণের সামনে দেওয়া হোক।

রাজনীতি জনগণের আস্থা, নৈতিকতা এবং দায়বদ্ধতার বিষয়। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মানুষ এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়ার অধিকার রাখে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত