back to top
শনিবার, মে ২৩, ২০২৬
Single Page Top Banner

আবারও বিতর্কে খুলশী থানার ওসি আরিফের ভূমিকা

চট্টগ্রামের খুলশীতে দুই শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ : মুয়াজ্জিন আটক

চট্টগ্রাম ব্যুরো।

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর আমবাগান এলাকায় দুই মেয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাতেন নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। বাতেন পেশায় স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন।

শুক্রবার (২২ মে) খুলশী আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ১১টার দিকে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলশী থানার পুলিশ।

ভিকটিমদের মা গণমাধ্যমকে জানান, দুই মেয়ে বাসায় ফিরতে দেরি করায় তারা খোঁজ নিতে যান। পরে মসজিদের ভেতরে দুই শিশুকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় শিশুরা জানায়, মুয়াজ্জিন তাদের জন্য নাস্তা আনতে বাইরে গেছেন। পরে শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অভিযোগ করে বলেন, সবার ছুটি হলেও তাদের দুজনকে আটকে রাখা হয়। এরপর নির্জন অবস্থায় মুয়াজ্জিন তাদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং কোলে বসিয়ে ঠোঁট ও গালে চুমু দেন।

বিষয়টি মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটিকে জানানো হলে কমিটির এক সদস্য (স্থানীয় সহ-সভাপতি) শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। জানা যায়, ওই ব্যক্তি শিশু দুটির সম্পর্কে দূর্সম্পর্কের নানা হয়। সেই ব্যক্তির কাছেও শিশুরা একই অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে মসজিদ কমিটি অভিযুক্ত মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে ১৩ নং ওয়ার্ড এলাকা চীরতরে ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তবে এতে সন্তুষ্ট হননি শিশু দুটির মা। তিনি পুলিশের মাধ্যমে বিচার দাবি করলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে খুলশী থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটিসহ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যান।

মসজিদ কমিটির দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, আমরা দুই মেয়ের একই বক্তব্য পেয়েছি৷ তাদের যৌন নিপিড়নের চেষ্টা হয়েছে এটা নিশ্চিত৷ তাই আমরা তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে এলাকা ছাড়ার স্বিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম৷

সিএমপি’র বিতর্কিত ওসি বর্তমানে খুলশী থানার দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত আরিফুর রহমান

আবারও বিতর্কিত ভূমিকায় ওসি আরিফ

সিএমপির বায়েজিদ থানা ও আকবর শাহ থানায় দায়িত্ব পালনকালে খুব ভালো কোনো রেকর্ড গড়তে পারেননি বর্তমান খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান। নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডে নাম আসায় তাকে কিছুদিন থানার ওসির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে সদ্য সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি আবারও খুলশী থানার ওসির দায়িত্ব পান বলে প্রচার রয়েছে ।

আজকের ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা ওসি আরিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। অভিযোগ রয়েছে, আগের কর্মস্থল গুলোতেও তিনি গণমাধ্যমের ফোন রিসিভ করতেন না।

এ ঘটনায় সিএমপির উত্তর বিভাগের উপকমিশনার আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছুই অবগত নই।” অথচ এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত অবহিত করা থানার ওসিদের নিয়মিত দায়িত্ব।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে ওসি আরিফ ভিকটিমদের মাকে ধমক দিয়ে বলেন, “দুইজনকে কি একসঙ্গে ধর্ষণ করা যায়?” তদন্ত শুরুর আগেই ওসি’র এমন মন্তব্যে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, ওসির আচরণে মনে হয়েছে যেন দোষ শিশুদের পরিবারেরই।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। কারণ, শিশু দুজন একই পরিবারের হওয়ায় একজনকে আগে ছুটি দিলে পরিবার দ্রুত বিষয়টি বুঝে ফেলতে পারত। তাই সবাইকে ছুটি দিলেও শিশু দুটিকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিবারটিকে অভিযোগ না করতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মুয়াজ্জিনকে থানায় ডিউটি অফিসারের পাশে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি যেন “ধর্ষণ চেষ্টা” হিসেবে প্রকাশ না পায়, সে চেষ্টাও চলছিল বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানে মোবাইল কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি৷ ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন জবাব দেননি৷

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত