back to top
শনিবার, মে ২৩, ২০২৬
Single Page Top Banner

শিশু বর্ষার রিপোর্ট আসতে লেগেছিল ৩ বছর

ঢাকায় শিশু রামিসা’র ডিএনএ রিপোর্ট পেতে লাগবে ৪৮ ঘন্টা, চট্টগ্রামে ফারিয়ার লাগবে একমাস !

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার সাড়ে তিন বছরের শিশু ফারিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমূনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন৷ তবে এই পরীক্ষার রেজাল্ট আসলে সময় লাগবে একমাস।

আজ (২২ মে) শুক্রবার গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে চমেক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে মেয়েটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ এসময় আমাদের মহিলা ডাক্তাররা মেয়েটিকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে। এসময় আমরা তার কোন ব্লিডিং হিস্ট্রি পাইনি৷” তিনি আরও বলেন, “আমরা তার ডিএনএ সেম্পল কালেকশন করেছি৷ এখন ডিএনএ টেস্ট করার জন্য আমরা সেম্পল ঢাকায় পাঠাবো৷” এই ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আসার পরই নিশ্চিত করে সব বলা যাবে৷” এই টেস্টের রিপোর্ট আসতে একমাস সময় লাগবে বলেও জানান তিনি৷

চট্টগ্রামের শিশু ফারিয়া’র ডিএনএ টেস্টের রেজাল্ট আসতে একমাস সময় লাগবে বলা হলেও ঢাকার আলোচিত শিশু রামিসা’র ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ গতকাল মিরপুরে গণমাধ্যমকে বলেছেন, “ডিএনএ টেস্টের নিয়ম হচ্ছে ৪৮ ঘন্টার সময় লাগে৷ যেহেতু এটা বৈজ্ঞানিক বিষয়৷ সেটা শেষ হবে রবিবার দুপুরের মধ্যে।” এসময় মন্ত্রী জানান রবিবার বিকেলের মধ্যে মানলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হবে৷ জানা গেছে ঢাকার সিআইডি’র ল্যাবে তত্তাবধানে এই ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়৷ তবে এই টেস্ট করার আগে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়৷

এই বিষয়ে বিশিষ্ট আইনবিদ, মানবাধিকার সংগঠক, সমাজকর্মী ও কলামিস্ট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু বলেছে ৪৮ ঘন্টা সময় লাগবে অর্থাৎ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব৷ কিন্তু আমরা দেখেছি যে চট্টগ্রামের আরেকটি শিশু বর্ষা মারা গেলো। জামাল খান এলাকায় শিশুটিকে ধর্ষনের পর হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল৷ সেই শিশু বর্ষার ডিএনএ রিপোর্ট এসেছে তিন বছর পর। চার্জশীট দিতেও সময় লেগেছে তিন বছরের বেশী সময়৷ সেই হিসেবে চমেক হাসপাতালের পরিচালক যদি ৩০ দিনেও রিপোর্ট পান তাহলে তো তিনি বেশী বিলম্বে বলেনি৷ সারা দেশে ঢাকাতেই একটি মাত্র ল্যাব আছে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সব ডিএনএ টেস্টের নমুনা সেখানে যায়৷ এরপর সিরিয়ালি রিপোর্ট আসে৷ এখন সেটা ৩০ দিন কেন তিন বছরও হতে পারে৷ এখন প্রশ্ন উঠছে ঢাকায় যদি ৪৮ ঘন্টায় পাওয়া যায় তাহলে আমাদের চট্টগ্রামেরটা ৪৮ ঘন্টার দ্বিগুন সময় লাগতে পারে৷ কিন্তু ৩০ দিন লাগবে কেন ? অন্য মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট বিলম্ব হোক কিন্তু শিশু ধর্ষনের মতন চাঞ্চল্যকর ও পাশবিক ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ডিএনএ রিপোর্ট দেয়া দরকার৷”

তিনি আরও বলেন,”এই যে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট, এটির জন্য পুলিশের চার্জশীট দিতেও বিলম্ব হবে৷ এই বিলম্বিত সময়ের মধ্যে আজকে যারা প্রত্যক্ষদর্শী দেখা যাবে তারা অনেকেই ভাড়াটিয়া৷ তাদের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে৷ এমন কি মামলার সাক্ষিদের আসামী পক্ষ প্ররোচিত করারও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় এমন কি অনেক সময় পুলিশও ম্যানেজ হয়ে পক্ষপাত মূলক প্রতিবেদন দিতে পারে৷ ৷ আর আইনানুগ শান্তি বিলম্বিত হওয়ার কারণে বিচার কার্যকরের নজির বিলম্বিত হচ্ছে ফলে এই জঘন্য অপরাধ একের পর ঘটেই যাচ্ছে।” তিনি চট্টগ্রামে অবিলম্বে একটি ডিএনএ টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের দাবী জানিয়ে বলেন, “এতো বড় বৃহত জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে শুধুমাত্র রাজধানীতে একটি মাত্র ল্যাবের ওপর ভর করে দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না৷ চট্টগ্রামে আরো একটি ল্যাব স্থাপন করা গেলে এই অঞ্চল ও আশপাশের জেলার ডিএনএ রিপোর্ট আরও দ্রুততম সময়ে দেয়া সম্ভব হবে৷”

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত