back to top
সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
Single Page Top Banner

ফটিকছড়ির ৩ ইউনিয়নে চলছে হরতাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

ফটিকছড়ি উত্তরের সদর দপ্তরের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে যৌক্তিক ও মধ্যবর্তী স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবিতে উপজেলার উত্তরাংশের ৩টি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও সড়ক অবরোধ।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকালে হরতাল কর্মসূচিকে ‘উন্নয়ন পরিপন্থী নৈরাজ্য’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে এবং সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানেই সদর দপ্তর বহাল রাখার পক্ষে অপর দুটি ইউনিয়ন এবং আন্দোলনরত একটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে সকাল ৬টা থেকে উপজেলার বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে হরতাল ও সড়ক অবরোধ চলছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার ঘোষিত বর্তমান স্থান পশ্চিম ভূজপুর মৌজাটি উপজেলার একবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এর ফলে সুদূর সীমান্ত সংলগ্ন বাগানবাজার বা হেয়াঁকো থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, যা চরম ভোগান্তি তৈরি করবে।

তারা সর্ব উত্তরের এই তিন ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবি জানান।
হরতালের কারণে ঢাকা-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং বারইয়ারহাট-হেয়াঁকো-ফটিকছড়ি সড়কে সব ধরনের দূরপাল্লার ও স্থানীয় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে সকাল থেকে হারুয়ালছড়ি, ভূজপুর এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের একটি বৃহৎ আংশিক এলাকার জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছেন। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও বাজারে সমাবেশ এবং শান্তিপূর্ণ মিছিলের আয়োজন করেছেন।

হরতাল বিরোধীদের দাবি, ভূজপুর থানা সংলগ্ন এলাকাটি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং নিরাপদ স্থান। সেখানে ইতিমধ্যেই সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। একটি পক্ষ অহেতুক সড়ক অবরোধ ও হরতাল ডেকে সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক ও যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নারায়ণহাট ইউনিয়নের আংশিক এলাকার বাসিন্দাদের একাংশও এই হরতালকে সমর্থন না করে সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তরের দাবিতে চলমান আন্দোলনের নেতা হাসান সামসুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের বিরুদ্ধে নয়, বরং সদর দপ্তরের ভুল ও অযৌক্তিক সিলেকশনের বিরুদ্ধে। বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাটের মানুষ কোনোভাবেই বর্তমান নির্ধারিত স্থানে সহজে যাতায়াত করতে পারবে না। আমরা চাই ৬টি ইউনিয়নের মানুষ যাতে সমান সুবিধা পায়, এমন একটি মধ্যবর্তী ও যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করা হোক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও হরতাল চলবে’।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত