আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কর্ণফুলী নদীর জায়গা লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যানসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
কর্ণফুলী নদী রক্ষায় এইচ আর পি বি এর করা জনস্বার্থের মামলায় হাইকোর্ট রায় দিয়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দেন এবং জরিপ অনুসারে কর্ণফুলী নদী রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। উক্ত নির্দেশনা অমান্য করে কর্ণফুলী নদীর অংশ যা জরিপে নদি হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেটি সিটি কর্পোরেশনকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি। সে কারণে চট্টগ্রাম পোর্ট এর চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামান প্রশাসন অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান, মেম্বার ফিনান্স মোঃ শহিদুল আলম, মেম্বার ইঞ্জিনিয়ারিং কমোডর কাউসার রশিদ এবং সম্পত্তি বিভাগের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়ান উদ্দিন এর বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হবে না সেই মর্মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
আদালত অপর এক আদেশে ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার বি আর এস দাগ নং ৬০১ এর জমি সংক্রান্ত বিষয় পরবর্তী সকল কার্যক্রমের উপর স্থিতিঅবস্থা আদেশ জারি করেছেন
শুনানিতে এইচ আর পিবি পক্ষের কৌশলী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোরসেদ মোরশেদ বলেন কর্ণফুলী নদী রক্ষার ব্যাপারে আদালতের রায় এর নির্দেশনা অনুসারে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা, নদীর সীমানা অনুসারে নদী রক্ষার নির্দেশনা রয়েছে এবং আদালত জলধার সংরক্ষণ আইনে নদীর অবস্থান এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি ইতিপূর্বেও রায় অমান্য করে কর্ণফুলী নদীর জায়গা লিজ দেওয়ায় আদালত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা রুল জারি করেন এবং স্থিতিঅবস্থা আদেশ দেন
চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি নদীর ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার বিএস ৬০১ দাগের কিছু জমি যা জরিপে নদী হিসেবে স্বীকৃত সেটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে উক্ত সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে এইচ আর পি বি এর পক্ষে একটি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়।
আজ শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসান এর আদালত চট্টগ্রাম কোর্টের চেয়ারম্যান সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা রুল জারি করেছেন এবং স্থিতি অবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন।
এইচ আর পি বি এর পক্ষে আবেদনকারী হলেন অ্যাডভোকেট মোঃ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী এবং এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া এবং বিবাদীরা হলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শহিদুল আলম, কমোডর কাউসার রশিদ, মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন। মামলায় বাদী পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।


