চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি’তে হাসপাতাল নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে এগোচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিআরবি এলাকায় রেলওয়ের জায়গা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথাব বলেন।
তিনি বলেন, সিআরবির বর্তমান অবস্থা কী, সেখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা আছে কি না, কিংবা বিদ্যমান অফিস ও কোয়ার্টারগুলোর অবস্থান কী- এসব বিষয় দেখতেই এই পরিদর্শন।
রেলমন্ত্রী বলেন, অতীতে এখানে প্রথমে ২০০ শয্যার এবং পরে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব পিপিপি পদ্ধতিতে এসেছিল এবং তা অনুমোদনও পেয়েছিল। তবে সে সময় কিছু মানুষের আপত্তির কারণে প্রকল্পটি এগোয়নি।
তাদের মতে, সিআরবি চট্টগ্রামের ফুসফুস ও অক্সিজেন সরবরাহের উৎস- এটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই তৎকালীন সরকার প্রকল্পটি আর এগিয়ে নিতে পারেনি।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের স্টেকহোল্ডার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের একটি প্রস্তাব সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পর্যায়ে ছিল। তবে বর্তমান সরকার এখনো সেটি বিবেচনায় নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, পিপিপি প্রকল্পের প্রক্রিয়ায় ডিপোজিটও করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে কী করা হবে-তা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কি না, করলে কোন প্রক্রিয়ায় করবে-এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিকল্প কোনো হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল- কোনো বৃক্ষের ক্ষতি না করে এবং বিদ্যমান অবস্থা অক্ষুণ্ন রেখে সম্ভাবনা থাকলে হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
সিআরবি ঘিরে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলন হতেই পারে- কে করছে, তা তাদের বিষয়। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পিপিপি প্রক্রিয়ায় যে অগ্রসর হয়েছিল, সেটি এখন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে- এমন কোনো বিষয় নয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সঙ্গে হাসপাতাল বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়র শুধু জানিয়েছেন—কিছু মানুষ সেখানে হাসপাতাল চান না। মানুষের এমন মতামত থাকতেই পারে, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ থাকাও স্বাভাবিক। তবে কোনো প্রকল্প যৌক্তিক হলে সরকার তা অবশ্যই বিবেচনা করবে।


