back to top
সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬
Single Page Top Banner

ভিক্ষুক-বাস্তুহীন ছাড়া করের আওতায় আসবে সবাই!

অনলাইন ডেস্ক:

কেউ যদি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে এক টাকা মূল্যের সম্পদও পান, ওই সম্পদেরও কর দিতে হবে। আর এই আইন হতে যাচ্ছে আসছে বাজেটে। এটি বাস্তবায়িত হলে পথের ভিখারি আর বাস্তুহীন ছাড়া যিনি এই সম্পদের অধিকারী হবেন, তাঁকেই কর দিতে হবে। তবে ভিক্ষুকও যদি বাবার উত্তরাধিকারী হিসেবে অন্তত এক টাকার বেশি সম্পদ পান, ভিক্ষুক হলেও তিনিও মাফ পাবেন না; তাঁকেও দিতে হবে কর।

এ ছাড়া কৃষক-শ্রমিক কিংবা দিনমজুর—কেউই মাফ পাবেন না, যদি তাঁরাও উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পদ পান। তাঁদেরও দিতে হবে কর। বলা যায়, এই আইনের মাধ্যমে গণহারে করের খড়্গ চাপানোর পথে হাঁটছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
এনবিআর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। নিকটাত্মীয় ও দূরসম্পর্কের আত্মীয়। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিকটাত্মীয় বলতে বোঝাবে মা, বাবা, আপন ভাই বা বোনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ।অন্যদিকে এর বাইরে যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পদ পেলে তা দূরসম্পর্কের আত্মীয় বলে বিবেচিত হবে। নিকটাত্মীয় হলে প্রাপ্ত সম্পদের ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর নির্ধারণ করা হতে পারে। অন্যদিকে দূরসম্পর্কের আত্মীয় হলে এই হার ৩ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষজন এখনো উত্তরাধিকার করের সঙ্গে অভ্যস্ত না। তাই এই কর বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা উচিত। উন্নত দেশগুলোর সরকার প্রত্যক্ষ কর থেকে অনেক টাকা আদায় করে। কিন্তু আমাদের আদায়ের বড় অংশ পরোক্ষ কর। দেশের কর আদায় বাড়ানোর জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সম্পদশালীরা সম্পদের বিপরীতে সারচার্জ দিচ্ছে, যদিও এটা তার মূল করের বাইরে। তাই এখানে দ্বৈত করের প্রশ্ন থেকে যায় কি না তা দেখা উচিত।’

বাজারমূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে উপ-কর কমিশনারের এখতিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্পদ হিসাবের একটা নির্ভরযোগ্য ফ্রেমওয়ার্ক থাকতে হবে। একেবারে কোনো একটা কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে না দিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। তা না হলে স্বেচ্ছাচারিতার জায়গা থেকে লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই জায়গাটা বিজ্ঞানভিত্তিক করতে হবে।’

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত