২০২২ সালের ১৭ জুলাই রাতে গ্রামে বন্ধুদের সঙ্গে ক্যারাম খেলছিল ১৩ বছরের কিশোর মোঃ বেলাল। এসময় অটোরিকশাচালক পারভেজ তাকে ডেকে আনতে সাকিব নামের এক তরুণকে সেখানে পাঠান। সাকিব কিশোর বেলালকে ডেকে স্থানীয় একটি কলেজের মাঠে নিয়ে যান। সেখানে পারভেজ, সাকিবসহ আরও কয়েকজন ওই কিশোরকে ঘিরে ধরে ইয়াবা এবং টাকা দাবি করেন। এসময় ভিকটিম বেলালের পকেট থেকে একটি টাকার বান্ডিলও ছিনিয়ে নেন তাঁরা। পরে ওই কিশোরকে মারধর করতে করতে পাশের একটি সেতুতে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে সেতুর ওপর ওই কিশোরের হাত-পা চেপে ধরে রাখেন তাঁরা। এ সময় সেই কিশোর বলতে থাকে, ‘আমার সব নিয়ে যাও, তবু প্রাণে বাঁচতে দাও।’ তখন হামলাকারীদের মধ্যে হাসান নামের একজন বলেন, ‘তাকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। বেঁচে থাকলে সবাইকে আমাদের নাম বলে দেবে।’ এরপর ধারালো কোদাল দিয়ে কিশোরটির পা ও গলায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
চার বছর আগে সংঘঠিত হয় এ হত্যাকাণ্ড। তবে এ ঘটনায় করা মামলায় সম্প্রতি সেই অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তাঁর দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার বিবরণ উঠে এসেছে।
কিশোর বেলালকে হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়া অটোরিকশাচালকের নাম মো. পারভেজ (২৪)। গত শুক্রবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
মামলার বিষয়ে সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ক্লুলেস (সূত্রবিহীন) এই মামলার পুরো রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। মূলত ইয়াবা বিক্রির লাভের অংশ না পেয়ে অটোরিকশাচালক পারভেজের পরিকল্পনায় ওই কিশোরকে খুন করে লাশ গুম করা হয়েছিল। এই মামলায় শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।


