চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার পাক্কার মাথায় অভিনব কারসাজির মাধ্যমে গরুর বাজার বসানোর অভিযোগ উঠেছে৷ এক ঠিকানায় ইজারার স্থান দেখানো হলেও বাজার বসানো হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অন্য জায়গায়৷ জায়গা বদল করে প্রকাশ্যে এমন আয়নাবাজি দেখেও দেখছেনা স্থানীয় প্রশাসন৷ অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই অপকর্মে নীরব সমর্থন জোগাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন৷
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সীতাকুন্ড উপজেলার ১০ নং সলিমপুর ইউনিয়নের পাক্কার মাথা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে অন্তত ৪০০-৫০০ গজ ভেতরে অবস্থিত “ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস লিঃ নামক একটি কারখানার মাঠ” দেখিয়ে একটি গরুর বাজার ইজারা নেয়। যদিও আবেদন পত্রটি সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘুরে জেলা প্রশাসকের কাছে পৌছে৷ অথচ বাস্তবে গরুর বাজারটি বসানো হয়েছে পাক্কার মাথা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েক গজ দূরত্বের “বলাকা স্টিল মিলের মাঠে”৷
স্থানীয়দের কাছে বলাকার মাঠ হিসেবে পরিচিত এই মাঠটিতে গরুর বাজারটি বসিয়েছে নাজিম উদ্দীন সোহেল, খুরশেদ আলম, দিদার, সাজ্জাদ ও মুছা সিন্ডিকেট৷ বলাকা মাঠে ইজারা কার কাছ থেকে নিয়েছেন জানতে চাইলে খুরশেদ আলম এখনই সময়কে বলেন, আমরা উপজেলার ইউএনও এর মাধ্যমে ইজারা নিয়েছি৷ তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত সাজ্জাদ বলতে পারবে৷ প্রতিবেদক মোঃ সাজ্জাদ এর ০১৬ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেনি৷

গরু বাজারটি শুরুর পর থেকে এর প্রবেশ পথ সহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে “বলাকা রোলিং মিলের মাঠ” গরুর বাজার লিখা একাধিক তোরণ ও বিলবোর্ড দেখা যায়। যার ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে৷ ২৩ মে সংবাদ কর্মীরা উক্ত স্থানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার ভয়ে আজ ২৪ মে “”বলাকা রোলিং মিলের মাঠ” এর পরিবর্তে নতুন করে “ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস লিঃ এর মাঠ” লেখা তোরণ ও ব্যানার বদলে ফেলা হয়৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা এখনই সময়কে জানান, ওরা তড়িঘড়ি করে সকাল সকাল সব পালটে ফেলেছে৷
এসকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে সীতাকুন্ড উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফখরুল ইসলাম এর সাথে ২৩ ও ২৪ মে একাধিকবার কল ও এসএমএস করা হলেও তিনি রহস্য জনক ভাবে কোনো জবাব দেননি৷ অভিযোগ উঠেছে ইউএনও এসব বিষয় জেনেই নীরব আছেন৷ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছেও একই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাননি এই প্রতিবেদন৷ বলা চলে চট্টগ্রামের প্রশাসন নীরব দর্শক৷

উচ্চ আদালতে রিট, বন্ধের নির্দেশ :
এই অস্থায়ী পশুর হাট বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। হাট বন্ধে মো. ফজলে আলম চৌধুরী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনারসহ মোট ৯ জনকে বিবাদী করে রিট দায়ের করেন। আবেদনে বলা হয়, বলাকা রোলিং মিল মাঠ ও পাকা রোড ফেইলন এলাকায় কোনো বৈধ অনুমোদন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়াই অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালিত হচ্ছে, যা শিল্পাঞ্চল, মহাসড়ক সংযোগ এবং জনবসতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
রিট পিটিশনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী হোসাইন বলেন, ‘আমার মক্কেলের পক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলাম। আদালত যথাযথ নিয়মে বাজারটি ইজারা দেয়া না হলে সেটি বন্ধের নির্দেশ দেন৷’

ইজারা শর্ত মানা হচ্ছে না :
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা অনুমতি পত্রে বেশ কিছু শর্ত থাকলেও সেগুলো মানা হচ্ছেনা বলেও অভিযোগ উঠেছে৷ স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান সড়ক থেকে ন্যূনতম ১০০ গজ দূরে হাট পরিচালনা করতে হবে, মহাসড়কে পশু কেনাবেচা বা যানবাহন থামানো যাবে না, প্রবেশ ও প্রস্থান পথ পৃথক রাখতে হবে, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, জালনোট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা রাখতে হবে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজার এলাকা নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখতে হবে। এসব শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসন যে কোনো সময় অনুমোদন বাতিল করতে পারবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হবে বলা হলেও বাস্তবে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তদারকি না থানায় এসব শর্তের কোনটাই মানা হচ্ছে না৷
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারাদার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা গরবাহী ট্রাক গুলো জোরপূর্বক থামিয়ে সিটি গেইটের বাহিরের ঐ বাজারে নামিয়ে ফেলা হচ্ছে। অথচ আমরা কোটি কোটি টাকা ইজারা দিয়ে বাজার বসিয়ে এখন মুলধন হারানোর ঝুঁকিতে আছি৷ এবার যে নজির বিহীন ঘটনা ঘটলো এর কারণে আগামীতে কেউ উচ্চ দরে সাগরিকা বাজার ইজারা নেবে না৷ ফলে সরকার নিশ্চিত ভাবে বড় অংকের রাজস্ব হারাবে৷


