সম্পত্তির লোভে ফাঁদে ফেলে বাবাকে অপহরণ এবং শ্বাসরোধে হত্যার প্রায় দুই বছর পর ছেলে ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক নারী সহযোগীকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত মীর মজিবুর রহমান খানের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও তার সহযোগী আব্দুল জলিল।
এর আগে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর বাঁশখালীর চাম্বল এলাকা থেকে বেলালের ভাই মো. আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছিল পিবিআই।
পিবিআই জানায়, নিহত মীর মজিবুর রহমান খান (৬০) পেশায় বাবুর্চি ছিলেন।
তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পাঁচটি বিয়ে করেছিলেন।
জমি বিক্রি ও সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ছেলে বেলাল হোসেনের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। ২০২৪ সালের জুন মাসে মজিবুর রহমান ফটিকছড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগরের মেয়ে সালমা খানমের বাসায় বেড়াতে আসেন। সেখান থেকে নিখোঁজ হওয়ায় বাবার কোনো খোঁজ না পেয়ে মেয়ে সালমা খানম প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি এবং পরে আদালতে অপহরণ মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত বেলাল হোসেন তার পরিচিত এক নারীকে দিয়ে বাবার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার নাটক সাজান। ২০২৪ সালের ৭ জুন ওই নারীর ডাকে নগরের বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় যান মজিবুর রহমান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বেলালের আত্মীয় আব্দুল জলিল। শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর মজিবুর রহমান অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বেলাল ও জলিল তাকে নিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে সন্ধ্যার পর নগরের হালিশহর এলাকার সিডিএ আউটার রিং রোড সংলগ্ন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পাশের ঝোপে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরেক ছেলে আনোয়ারের প্রেপ্তারের বিষয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে আনোয়ারের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং তদন্তে বেলাল ও তার ভাই জলিলের নামই মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে।


