চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে টানা বর্ষায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে আটকা পড়েছে। উপজেলার উত্তর মধ্যম ও দক্ষিণ অংশের ৮টি ইউনিয়নের মানুষ এই দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে টর্নেডোর প্রকোপে প্রায় ৩০ টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত সাত দিনের টানা বৃষ্টির কারণে দ্বীপের সারিকাইত, মগধরা, মুছাপুর, গাছুয়া, পৌরসভার আংশিক, সন্তোষপুর, আমানউল্লাহ এবং দীর্ঘাপাড় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও মাইটভাঙ্গা, রহমতপুর, কালাপানিয়া সহ আরো কয়েকটি ইউনিয়নের কিছু অংশে পানি বদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
অধিকাংশ বাড়িঘরে এক্স হাটু থেকে কোমড় পর্যন্ত পানি উঠেছে। এতে মাছের প্রজেক্ট, ধানের জমি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি বন্দী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। গত তিনদিন ধরে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছেন। আমজাদ হোসেন বলেন, সন্দ্বীপে আজ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ জলবদ্ধতার ভকারণে আটকা পড়েছেন। এপর্যন্ত ১ হাজার ৫৫ জনকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সন্দ্বীপের সাংসদ এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।
সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ফসিউল আলম জানান, বিভিন্ন এলাকা হাটু থেকে কোমড় পর্যন্ত পানি উঠেছে। মূলত পানিনিষ্কাশনের খালের মুখে বাধের কারণে এই পানিবদ্ধতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এসব বাধ অপসারণ করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর জানান, উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপি ও অংগ সংগঠনগুলো এই দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে।


