back to top
সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
Single Page Top Banner

সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ফ্ল্যাটে মিলেছে বিএমডব্লিউর চাবি, রোলেক্স ঘড়ির বক্স, ৩০০ কোট

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের গুলশানের ২টি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী, রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়ির বক্স, শত শত কোট-টাই এবং ৫টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের অংশ হিসেবে রোববার (১৯ জুলাই) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সেখানে প্রবেশ করে মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে সংস্থাটি।

দুদকের সুত্রে জানা যায়, প্রাথমিক তালিকায় ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ১০০টির বেশি কামিজ, তিন সেট মুক্তার অলঙ্কার, চারটি ঝাড়বাতি, একাধিক খাট ও সোফার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আটটি বিলাসবহুল ঘড়ির খালি বক্স পাওয়া গেছে, যার মধ্যে চারটি রোলেক্স ব্র্যান্ডের। এসব ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির চাবিও রয়েছে। ফ্ল্যাটে থাকা দামি আসবাবপত্র ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীরও তালিকা করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, সেটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের ‘Rolex Cellini Date’ (মডেল-৫০৫১৯)। ওয়ারেন্টি কার্ডে উল্লেখ রয়েছে, ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের Harrods ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে কেনা হয়। কার্ডটিতে মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নাম, মডেল নম্বর ৫০৫১৯ এবং সিরিয়াল নম্বর ৭৩৪৫২৪৫৯ উল্লেখ রয়েছে।
বিলাসবহুল ঘড়ির পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মডেলের ব্যবহৃত একটি ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি।
গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটির মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। দুটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের আদেশ দেন। আদালত দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেন।

তবে ফ্ল্যাট দুটি তালাবদ্ধ থাকায় রিসিভার সেখানে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। পরে দুদকের আবেদনের পর গত ২৯ এপ্রিল আদালত অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুপস্থিতিতেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাধাহীনভাবে ফ্ল্যাটে প্রবেশ এবং ভেতরে থাকা মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেন। সেই অনুমতির ভিত্তিতেই রোববার অভিযান চালানো হয়।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তালিকা তৈরির কাজ চলে। কাজ শেষ না হওয়ায় সোমবার সকাল থেকে আবারও তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু হবে। কাজ শেষে জব্দ করা মালামাল আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত