back to top
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
Single Page Top Banner

১৪৯ মিলিয়নের বেশি জিমেইল, ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম লগইন তথ্য ফাঁস!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সম্প্রতি ১৪৯ মিলিয়নের বেশি লগইন তথ্য একটি উন্মুক্ত অনলাইন ডাটাবেজে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে জিমেইল, ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম ও নেটফ্লিক্সসহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট।

গুগল বা মেটার সার্ভারে সরাসরি হাকিং্যের মাধ্যমে নয় বরং ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে ঢুকে পড়া ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জেরেমায়া ফাওলার ৯৬ গিগাবাইটের একটি পুরোপুরি উন্মুক্ত ডাটাবেজ খুঁজে পান। কোনো পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ছাড়াই ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ এটি দেখতে পারত।

ডাটাবেজটিতে ছিল ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম, সরাসরি পাসওয়ার্ড এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের লগইন লিংক। অর্থাৎ সাইবার অপরাধীদের জন্য এটি ছিল এক ধরনের প্রস্তুত তালিকা।

ডাটাবেজে সবচেয়ে বেশি তথ্য ছিল ইমেইল অ্যাকাউন্টের। আনুমানিক হিসাবে- জিমেইল ৪৮ মিলিয়ন, ফেসবুক ১৭ মিলিয়ন, ইনস্টাগ্রাম ৬.৫ মিলিয়ন, ইয়াহু মেইল ৪ মিলিয়ন, নেটফ্লিক্স ৩.৪ মিলিয়ন, আউটলুক ১.৫ মিলিয়ন, আইক্লাউড মেইল ৯ লাখ, টিকটক ৭.৮ লাখ।

ইমেইল একাউন্ট হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অন্যান্য একাউন্টের প্রবেশাধিকার খুব সহজেই পেতে পারে হ্যাকাররা। ফলে ব্যাংক, সোশ্যাল মিডিয়া, ব্যক্তিগত নথি, বিল, এমনকি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়ে।

ম্যালওয়্যার সাধারণত ছড়ায় ভুয়া সফটওয়্যার আপডেট, সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট, ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশন বা বিভ্রান্তিকর অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। ব্যবহারকারী যখন পাসওয়ার্ড টাইপ করেন বা ব্রাউজারে সেভ করেন, তখনই তা চুরি হয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ডিভাইসে ঢুকে পড়া ‘ইনফোস্টিলার’ ধরনের ম্যালওয়্যার এসব লগইন তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।

গবেষক ডাটাবেজটির বিষয়ে হোস্টিং কোম্পানিকে জানালেও প্রায় এক মাস এটি উন্মুক্ত ছিল।

হ্যাকিং থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায় :

১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন: একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

২. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখুন: ফেসবুক, জিমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ব্যাংকিং অ্যাপে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন অন করে রাখুন। এতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকে।

৩. সন্দেহজনক লিংক ও ইমেইল এড়িয়ে চলুন: অজানা ইমেইল, এসএমএস বা মেসেঞ্জারের লিংকে ক্লিক করবেন না।

৪. ডিভাইস ও সফটওয়্যার আপডেট রাখুন: মোবাইল, কম্পিউটার ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেটেড রাখুন।

৫. অ্যান্টিভাইরাস ও ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুন: বিশ্বাসযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল রাখুন ও অজানা সফটওয়্যার বা ক্র্যাক করা অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।

৬. সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য সীমিত রাখুন: ব্যক্তিগত তথ্য (ফোন নম্বর, ঠিকানা, জন্মতারিখ) প্রকাশ না করা।

৭. নিয়মিত ব্যাকআপ রাখুন : গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ক্লাউড বা হার্ডড্রাইভে ব্যাকআপ করুন যাতে আক্রমণে ডেটা হারানোর ঝুঁকি কমে ।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত