চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি বাসায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে তিন শিশুসহ আটজন দগ্ধ হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
আজ সোমবার ভোরে নগরের হালিশহর থানাধীন এসি মসজিদের পাশের একটি আবাসিক ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানায়, ভোর সাড়ে ৫টায় শিশুসহ দগ্ধ আটজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। আহতরা হলেন শিপন (৩০), সুমন (৪০), শাওন (১৭), পাখি (৩৫), শাখাওয়াত (৪৮) এবং আনাস (৪), আইমান (৭) ও আয়েশা (৯)।
তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে ১০০ শতাংশ পুড়ে গেছে রানী ও পাখি নামের এই দুই নারীর। এছাড়া শিপন, সুমন , শাওনের ও শাখাওয়াতের ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধে আয়েশা ও আনাসের শরীরের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ও প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়াকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয় । যার ফলে এই দূর্ঘটনায় দগ্ধ সবার অবস্থায়ই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ওই ঘরে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন বলেন, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। কোনো কারণে চুলা থেকে হয়তো গ্যাস লিক হয়েছিল, যে কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন। তবে দগ্ধদের স্বজনরা বলছেন, ভবনটির লিফ্ট দির্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিলো। সেই লিফ্ট ছিড়ে পড়ে বিস্ফোরণ কীনা সেটিও খতিয়ে দেখা হোক।


