back to top
সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬
Single Page Top Banner

জ্বালানি তেল সংকটে গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ : দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি:

জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা টু সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া নৌরুটে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার। গতকাল রবিবার সকাল থেকে এই রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এই রুটের যাত্রীরা ভোগান্তির পড়েছেন।

দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সাথে একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা হচ্ছে নৌ-পথ। পাঁচটি নৌ-রুটের মাধ্যমে সন্দ্বীপে আসা যাওয়া করতে হয়। এসব নৌ-রুটে যাত্রী পারাপারের জন্য স্টিমার, ফেরী সহ কাঠের সার্ভিস বোট ও স্পিডবোট চালু রয়েছে। বাশবাড়িয়া টু গুপ্তছড়া রুটে ফেরী কপোতাক্ষ চালু রয়েছে। কুমিরা টু গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ এর জাহাজ ‘এমভি মালঞ্চ’ ও কাঠের তৈরি বড় সার্ভিস বোট চালু রয়েছে। অন্যান্য ঘাট গুলোতেও সার্ভিস বোট ও স্পিডবোট চালু রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সুবিধা ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নৌ রুটগুলোর মধ্যে কুমিরা- গুপ্তছড়া এবং বাশবাড়িয়া – গুপ্তছড়া রুটে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে।

বর্তমানে আমেরিকা ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এই কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না তেল কোম্পানিগুলো। সেজন্য স্পিডবোটের এই জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

কুমিরা গুপ্তছড়া রুটে বিআইডব্লিউটিএর নিয়োজিত ইজারাদার জগলুল হোসেন নয়ন স্পিড বোট চলাচল বন্ধের বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, এই রুটে প্রতিদিন যাত্রী পারাপারের জন্য প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ লিটার অকটেন প্রয়োজন হয়। আমরা প্রতি সপ্তাহে পে অর্ডারের মাধ্যমে এই তেল সংগ্রহ করে থাকি।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে আমরা মেঘনা অয়েল কোম্পানি থেকে সর্বশেষ জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেছি। রবিবার আমাদের জ্বালানি তেল মোটামুটি শেষ হয়ে যায়। এরমধ্যে আমরা নতুন করে অকটেনের জন্য ব্যাংক পে-অর্ডার দিয়েছি। কিন্তু মেঘনা অয়েল কোম্পানি তেল সংকটের কারণ দেখিয়ে সেটি ফেরত দিয়েছে। এখন যে সামান্য পরিমাণ অকটেন মজুদ রয়েছে তা জরুরি ভিত্তিতে রোগী পারাপারের জন্য রাখা হয়েছে।

হঠাৎ করে সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রবিবার সকাল থেকেই যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। তবে ঘাটে যাত্রী পারাপারের দায়িত্বে থাকা শামছুল আলম দেলু বলেন, যাত্রীর চাপ বিবেচনা করে কাঠের বোট সার্ভিস দিয়ে যাত্রী পারাপারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্টিমার সার্ভিস চালু রয়েছে।

সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্য কুমিরা ঘাটে আসা যাত্রী সুমন জানান, তাড়াতাড়ি করে বাড়ি যাওয়ার জন্য সকালেই ঘাটে এসেছি। এখন দেখছি স্পিডবোট বন্ধ রয়েছে। বাড়ি যাওয়া দরকার। তাই এখন স্টিমার অথবা সার্ভিস বোটে করে যেতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম দপ্তরের সহকারী পরিচালক নয়ন শীল বলেন, জ্বালানি সংকটে স্পিডবোট বন্ধের বিষয়টি তারা জেনেছেন। এটি জাতীয় পর্যায়ের সংকট হলেও ঈদে যাত্রী পারাপারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানির কাছে বিশেষভাবে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হবে।

সাধারণ যাত্রীরা জানান, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে মাত্র চার-পাঁচ দিন পর থেকে ঘাটে যাত্রী চাপ শুরু হবে। এর মধ্যে যদি জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে যাত্রী পারাপারে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত