চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা। রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে আয়োজিত এই সভা থেকে উচ্চারিত হয়েছে ১৫ দিনের কঠোর আল্টিমেটাম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মাদকসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, মাদক এখন আমাদের সমাজের সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।
এ বিএনপি নেতা আরও বলেন, সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে একসাথে কাজ করতে হবে। নিজেদের এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে হলে এখনই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

মো. আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে এবং মোহাম্মদ এস. এম. আবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা একযোগে সতর্ক করে বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের সামাজিকভাবে বয়কটের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায় হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুরব্বিরা উপস্থিত থেকে একযোগে মাদকবিরোধী আন্দোলনে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এটি এলাকাবাসীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়াও এ সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কমিটি এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালাবে
মাদক সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করবে
প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
সভা শেষে স্হানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সম্মিলিত এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পটিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত এলাকায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের এই দৃঢ় অবস্থান ইতোমধ্যেই এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং অনেকেই এটিকে ‘জনগণের নিজস্ব প্রতিরোধ আন্দোলনের সূচনা’ হিসেবেও দেখছেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন হাজী এজাহার সওদাগর, খোকন মল্লিক, জাফর আহম্মদ, হাজী আব্দুল মালেক, ফজল করিম, উত্তম দে, ফুফন দে, দিদারুল ইসলাম, কুতুব উদ্দিন, নুরুল হাকিম, রনজিৎ, নন্দন, বেলাল, ফারুক, পলাশ, মাসুম, আকাশ, সাজু দে, স্বপন, রতন দে, উজ্জ্বল, জসিম উদ্দিন (আর্মি), শাকিল, ছাত্রনেতা মাহমুদুল আলম বাবু মামুন, সাইফুল, সাজিদ রাকিব হামিদ, মো. আব্দুল করিম, মোহাম্মদ এস. এম. আবুসহ আরো অনেকেই।


