বাংলাদেশের পতাকাবাহী নতুন যুক্ত হওয়া ‘বাংলার নবযাত্রা’ ও ‘বাংলার প্রগতি’ ইতিমধ্যেই আয় করেছে ৫০ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে লাভ করেছে প্রথম সারির পরিবেশবান্ধব জাহাজের স্বীকৃতি। দেশি-বিদেশি নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও অপপ্রচারকে পেছনে ফেলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এখন বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েছে শক্তিশালী অবস্থানে। প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরের ইতিহাসে নিজস্ব অর্থায়নে ও সক্ষমতায় সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক সাফল্যের এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
বিশ্বমানের প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ বিএসসি বহর
• বিএসসির বহরে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া নতুন দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ আধুনিক নৌ-প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন।
• চায়নায় নির্মিত হলেও এই জাহাজ দুটির প্রধান ইক্যুইপমেন্টসমূহ (Major Equipment) ওয়েস্টার্ন এবং জাপানি অরিজিনের।
• এগুলো সম্পূর্ণভাবে NECA বিধিমালা অনুসরণ করে তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাউস গ্যাস (GHG) নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।
• এরোডাইনামিক শেপ এবং ডুয়েল ফুয়েল রেট্রোফিট সম্পন্ন এই জাহাজগুলো প্রচলিত অন্যান্য জাহাজের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বেশি উন্নত এবং ব্যাপক জ্বালানি সাশ্রয়ী।
স্বচ্ছতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুফল
• জাহাজ দুটির সংগ্রহ প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানের。
• সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র পদ্ধতি (OSTETM) অনুসরণ করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত ‘দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে এই ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।
• পুরো প্রক্রিয়ায় আইআইএফসি (IIFC) এবং যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত মেরিটাইম ল’ ফার্ম এইচএফডব্লিউ (HFW)-এর কারিগরি ও আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছিল।
• আন্তর্জাতিক শিপ ভ্যালুয়্যারদের মাধ্যমে নির্ধারিত ৪০.২ মিলিয়ন ডলারের প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা কমে প্রতিটি জাহাজ ৩৮.৩৪ মিলিয়ন ডলারে সংগ্রহ করে বিএসসি বড় ধরনের আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক রুটে অনন্য সাফল্য
• বহরে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই জাহাজ দুটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পরিচালনা করছে。
• ইতিমধ্যে USA, Brazil এবং Ivory Coast-এর মতো দেশগুলোর পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল (PSC) ও ক্লাসের (Class) প্রতিটি ইনস্পেকশনে ‘জিরো ডেফিসিয়েন্সি’ (Zero Deficiency) ডিক্লেয়ার করেছে, যা জাহাজগুলোর উচ্চ গুণগত মানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
• মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই জাহাজ দুটি থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় হয়েছে এবং বর্তমান পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকলে আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকৃত সম্পূর্ণ অর্থ উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আর্থিক সক্ষমতার নতুন রেকর্ড
• বিএসসি বর্তমানে তার ইতিহাসের স্বর্ণযুগ পার করছে।
• গত অর্থবছরে সংস্থাটি রেকর্ড ৮০০ কোটি টাকা আয় এবং ৩০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে।
• রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার এমন ঈর্ষণীয় সাফল্য ম্লান করতে কোনো কোনো মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করলেও বিএসসির এই অদম্য অগ্রযাত্রা এখন অপ্রতিরোধ্য।
বিশেষজ্ঞ অভিমত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে বিএসসি যেভাবে পুনরুত্থান ঘটিয়েছে, তা জাতীয় অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন শিপিং খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিএসসি যদি আরও বিভিন্ন আকৃতির আধুনিক বাল্ক ক্যারিয়ার, অয়েল ট্যাঙ্কার এবং কন্টেইনার জাহাজ নিজস্ব বহরে যুক্ত করতে পারে, তবে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সচল রাখার পাশাপাশি পণ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে সরকারকে আর বিদেশি সংস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না, যা প্রকারান্তরে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজস্ব সক্ষমতায় এমন অর্জন জাতীয় গর্বের বিষয় এবং ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।


