যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তারা এর মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী ও সমন্বিত শান্তির পথ তৈরি করতে সব পক্ষকেই যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণাকে একটি ‘দূরদর্শী পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দুই দেশের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল তিনি উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মিশর এই সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। কায়রো এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং নৌপথে অবাধ চলাচলের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টোন পিটারস এই পদক্ষেপকে উৎসাহজনক বললেও তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য সামনে এখনও অনেক কাজ বাকি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ট্রাম্প “অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন”। এদিকে, ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন জানালেও বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।


