back to top
শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬
Single Page Top Banner

আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ করার দাবি এমপি সাঈদ আল নোমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এ আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য সাইয়েদ আল নোমান। এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) চিঠি দিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন অধ্যাদেশে শিল্পকলার বিভাগের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ৯ করা হলেও সেখানে আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টিকে তিনি দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ধারাকে অবমূল্যায়নের শামিল।

ডিও লেটারে তিনি আরও বলেন, আবৃত্তি কেবল একটি শিল্পমাধ্যম নয়; এটি ভাষা, সাহিত্য ও জাতির চেতনার অন্যতম বাহক। বিশেষ করে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে আবৃত্তির ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ শিল্পচর্চা নতুন প্রজন্মকে মানবিক, সচেতন ও সংস্কৃতিমনস্ক করে গড়ে তুলতে সহায়ক।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে অসংখ্য আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আবৃত্তিকে যথাযথভাবে স্থান না দিলে এ খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শিল্পকলার সামগ্রিক বিকাশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংসদ সদস্য সাইয়েদ আল নোমান তার চিঠিতে আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আবৃত্তি শিল্পীরা তাদের কাজের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবেন। এ বিষয়ে তিনি চীফ হুইপ মহোদয়ের সাথেও কথা বলেছেন এবং শিল্পকলা একাডেমি অধ্যাদেশে আবৃত্তি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা ও দাবি তুলে ধরেন বলে জানান। একইসাথে দেশের শিল্প মাধ্যমেগুলোর জনপ্রিয়তার বাস্তবতা বিবেচনায়, অধ্যাদেশে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ যুক্ত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া:

এদিকে আবৃত্তি বিষয়ক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’, আবৃত্তিকর্মী ও সারাদেশের আবৃত্তিপ্রেমীরা এমপি মহোদয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’ প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার এই দাবি বাস্তবায়িত হলে দেশের আবৃত্তি চর্চা নতুন গতি পাবে। এতে একদিকে যেমন নতুন শিল্পীরা উৎসাহিত হবেন, অন্যদিকে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হবে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবৃত্তিশিল্পীরা এ দাবিটি জানিয়ে আসছিলেন। সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগ সেই দাবিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাংগঠনিক কাঠামোয় আবৃত্তিকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত