back to top
শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬
Single Page Top Banner

চসিক’র সৌন্দর্য বর্ধন নাকি বিজ্ঞাপন বর্ধন ? নির্মাণাধীন র‍্যাম্পের পিলারেও বিজ্ঞাপন !

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগরীতে নতুন রূপে আবার ফিরছে বিল বোর্ড ৷ এখন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে বিদ্যুৎ খেকো বিশালাকৃতির টিভি (জায়ান্ট স্ক্রিন)৷ বিগত চসিক মেয়রদের আমলের ধারাবাহিকতায় বর্তমান মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেনের আমলেও সৌন্দর্য বর্ধনের নামে বিভিন্ন গোল চত্ত্বর, সড়কের মাঝের ডিভাইডার, ফুটপাত, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে যত্রতত্র যাত্রী ছাউনির নামে বিজ্ঞাপন ও দোকান বাণিজ্য চলমান আছে৷ পরিবর্তন বলতে আগে আওয়ামী ঘরানার লোকজন এসব কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেতো এখন পাচ্ছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা৷ এসব বিজ্ঞাপন থেকে বাদ যায়নি সিডিএ’র নির্মানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পের পিলার৷

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যারাই সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ পেয়েছে তাদের বেশীর ভাগই নতুন করে কোন সৌন্দর্য বর্ধনের তেমন কোন কাজ না করলেও ঠিকই নতুন নতুন বিজ্ঞাপন লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে৷ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পুরনো সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ গুলোতে সামান্য কিছুটা ঘষামাঝা করেই দায় সেরেছে৷ অনেক স্থানে পুরনো সৌন্দর্য বর্ধনের ভাঙ্গা অবকাঠামো গুলো নুন্যতম মেরামত পর্যন্ত করা হয়নি৷ অথচ সেখানে নতুন নতুন বিজ্ঞাপন ঠিকই শোভা পাচ্ছে৷ আগে যেখানে বিজ্ঞাপন দেখা যায়নি এখন সেখানেও লাগানো হয়েছে নতুন বিজ্ঞাপন৷

রাত সাড়ে ৮টার সময়ও জ্বলতে থাকে বিজ্ঞাপনের লাইট বক্স।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার কথা বলছেন সেখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন চলছে ঠিক উলটো পথে৷ নগরীর বেশীর ভাগ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এখন দেখা যাচ্ছে জায়ান্ট স্ক্রিনে (বড় আকৃতির টিভি) বিজ্ঞাপন প্রদর্শন৷ এছাড়া নতুন স্থাপিত বেশীর ভাগ বিজ্ঞাপন গুলোই লাইট বক্সের মাধ্যমে স্থাপন করা হচ্ছে। ফলে এসব বিজ্ঞাপনের জন্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ছে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি ঘটেছে নগরীর ওয়াসা’র মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত নির্মানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পের পিলারে৷ বাওয়া স্কুলের সামনের যেসব র‍্যাম্প নিয়ে প্রথম দিকে খোদ সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন আপত্তি তুলেছিলেন, যে র‍্যাম্পের কাজ এখনও চলমান সেই র‍্যাম্প গুলোতেও লাগানো হয়েছে একটি মোবাইল সেট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন৷।

জিইসি থেকে ওয়াসা মুখি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে লাগানো বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, সৌন্দর্য্য বর্ধনের নামে এই র‍্যাম্পের পিলার গুলোও বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করছে সৌন্দর্য বর্ধনের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান৷ অথচ ওয়াসার মোড় থেকে দামপাড়া পর্যন্ত কোথাও নতুন কোন সৌন্দর্য বর্ধন কাজের দেখা মেলেনি৷ তবে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে এবং ওয়াসা ভবনের দক্ষিন পাশে সীমানা লাগোয়া স্থাবে নতুন করে পৃথক দুটি যাত্রী ছাউনি নির্মিত হয়েছে৷ যা যাত্রী ছাউনীর চেয়ে বিজ্ঞাপন হিসেবেই বেশী ব্যবহার হতে দেখা গেছে৷

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, এখনো তাদের র‍্যাম্প নির্মানের কাজই শেষ হয়নি৷ তা ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি ফলে এই র‍্যাম্পের পিলার গুলো কিভাবে বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে সেটি তাদের বোধগম্য হচ্ছে না৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যেহেতু আমাদের নির্মান কাজ চলমান তাই আমরা বাঁধা দিতে চাইলেও নিজেদের একটি দলীয় লোক ও চসিক থেকে অনুমতি আছে দাবি করে রমজান মাসে রাতারাতি বিজ্ঞাপন গুলো পিলারে লাগানো হয়েছে৷

যদিও ইতিমধ্যে চসিক মেয়র অপ্রয়োজনীয় যাত্রী ছাউনী ও অবৈধ বিল বোর্ড অপসারণের ঘোষনা দিয়েছেন৷ নিজে একাধিক পরিচালনায় সামিল হয়েছেন৷ তবে এখন পর্যন্ত কাজীর দেউরী মোড়ের একটি খালি বিলবোর্ডের অবকাঠামো অপসারণ ছাড়া বিদ্যমান বড় বড় বিলবোর্ড ও জায়ান্ট স্ক্রিনের বিষয়ে এখন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি৷

এই বিষয়ে জানতে সৌন্দর্য্য বর্ধনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি৷

চসিক’র একাধিক সূত্র বলছে এসব সৌন্দর্য বর্ধন কাজ করতে বিশেষ করে বিশালাকৃতির টিভি (জায়ান্ট স্ক্রিন) স্থাপন করতে প্রতি বর্গফুট হিসেবে নির্ধারিত অংকের অর্থ চসিক’র রাজস্ব বিভাগে জমা করতে হয়৷ তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব অর্থ সম্পূর্ণ পরিশোধ না করেই এসব জায়ান্ট স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করছে বিজ্ঞাপনী সংস্থা গুলো৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে চসিক’র এক কর্মকর্তা জানান, জায়ান্ট স্ক্রিন গুলো বেশীর ভাগই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেনি৷ অনেকে সামান্য কিছু (পার্শিয়াল প্যামেন্ট) অর্থ জমা করে, অর্থ মওকুফের জন্য মেয়র বরাবর আবেদন জমা দিয়েই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে৷ যেহেতু মেয়রের কাছে আবেদন জমা দিয়েছে এবং আবেদন বিবেচনা প্রক্রিয়াধীন তাই আমরাও কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছি না৷ মূলত মেয়রের কাছে আবেদনের ফর্মূলা ব্যবহার করে বড় অংকের রাজস্ব এখনো পরিশোধ করেনি সৌন্দর্য বর্ধনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান গুলো৷

এসব বিষয়ে চসিকের উর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি৷ ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোন জবাব মেলেনি৷

এসব বিষয় ও চিত্র চসিক মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেনের হোয়াটসঅ্যাপে প্রেরণ করা হলেও এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত তিনি কোন বক্তব্য দেননি৷

এসব সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ এলাকা ভিত্তিক বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের দেয়া হয়েছে৷ দলীয় প্রভাব থাকায় যেখানে যেমন খুশি বিজ্ঞাপন লাগিয়ে বিজ্ঞাপন বর্ধন করলেও এখন পর্যন্ত নতুন করে উল্লেখযোগ্য কোন সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজের দেখা মেলেনি৷ নাগরীক সমাজ মনে করে সৌন্দর্য বর্ধন ও এর রক্ষনা বেক্ষনের জন্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাটা দোষের কিছু নয়। তবে নতুন কোন সৌন্দর্য বর্ধন না করে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ফলে নগরবাসীর চেয়ে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান গুলোর লাভ হচ্ছে৷

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত