back to top
রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
Single Page Top Banner

চসিকের প্রকৌশলী দম্পতি’র বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী ও নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে ওঠা সম্পদের অসামঞ্জস্য, দায়িত্ব বণ্টনে প্রভাব, দ্রুত পদোন্নতি, টেন্ডারসংশ্লিষ্ট অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সরেজমিনে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তের নির্দেশ জারির পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে শাহীন উল ইসলাম চৌধুরীর এক বছরের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার আবেদন।
উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার আবেদনকে ঘিরে উঠেছে নানান প্রশ্ন।

তদন্তের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদেশযাত্রার উদ্যোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। যদিও আবেদনটির সঙ্গে তদন্তের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখা থেকে গত ৯ জুলাই জারি করা স্মারকে অভিযোগগুলো সরেজমিনে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৫ জুন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মেহেদী চৌধুরী স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

সেই অভিযোগে প্রকৌশলী দম্পতির নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক অনিয়ম, দায়িত্বে প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তোলা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নগরের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বোয়ালখালীতে জমি, ব্যক্তিগত দামী গাড়ি, সন্তানদের ব্যয়বহুল ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা এবং বিদেশে সম্পদ গড়ার মতো বিষয় তাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে যাচাই হয়নি।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, এক বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের শর্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান।

এই দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে, তার স্ত্রী ফারজানা মুক্তাও প্রকৌশল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের এক আদেশে তাকে একসঙ্গে ১০টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ নিয়ে বিভাগটির কয়েকজন কর্মকর্তা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, একই পদমর্যাদার অন্য কর্মকর্তাদের তুলনায় দায়িত্ব বণ্টনে ভারসাম্য ছিল না।

প্রকৌশল বিভাগের একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, উন্নয়নকাজের বিভিন্ন ফাইল নিষ্পত্তি ও টেন্ডারসংক্রান্ত কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হতো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ শাহীন উল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা এর আগে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ ছাড়া তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না এবং প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় এসেছে।

অভিযোগগুলো কতটা সত্য, সম্পদের উৎস কী, দায়িত্ব বণ্টনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত প্রতিবেদনেই।

 

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত