সদ্য বাংলাদেশে আয়োজিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ইসিআই) লক্ষ্য করে এবার জোরালো আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেখুন, বাংলাদেশ কত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। সবাই ভেবেছিল সেখানে সহিংসতা হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও এদেশের নির্বাচন কমিশন ‘হুমকি সংস্কৃতির’ মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের উদাহরণ টেনে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘বাংলার সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে জামায়াতের জয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি হয়েছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনি ফলাফলে তিনি উচ্ছ্বসিত কারণ তিনি জামায়াতের ‘‘বি-টিম’’ চালাচ্ছেন।’
কমিশনের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর ‘তুঘলকি’ কটাক্ষের প্রতিবাদ জানিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর ক্ষোভ থাকলে তিনি আদালতে যেতে পারেন। কিন্তু কমিশনের বিরুদ্ধে এই ‘‘তুঘলকি’’ মন্তব্য আমরা সমর্থন করি না।’
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে সাতজন বরখাস্ত আধিকারিকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, ‘ওরা কাজ করবে। নির্বাচনের কাজ ছাড়াও আরও কাজ আছে। ওরা অন্য কাজ করবে। জেলায় ওরা ভালো কাজই করবে, ওদের তো আর বরখাস্ত করা হচ্ছে না।’
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইআরও-দের সাসপেন্ড করার কারণ কী? তাদের অপরাধটা কোথায়?’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যদি কেউ ভুল করে থাকত, তবে তা রাজ্য সরকারকে জানানো যেত। আমরা বিনম্রভাবে কমিশনের নির্দেশ মেনে নিয়েছি। কিন্তু শাস্তি দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি।’
ব্যক্তিগতভাবে ওই কর্মকর্তাদের চেনেন উল্লেখ করে মমতা জানান, তারা দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেছেন।


