অবশেষে আদালতের নির্দেশে হত্যাকান্ডের ১৩দিন পর রাউজান থানায় নাসির তালুকদারের হত্যা মামলার এজাহার রেকর্ড করা হয়েছে৷ এর আগে নিহতের স্ত্রী বেদুরা বেগম (৪৫) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট-২ এ মামলার আবেদন করলে (মামলা নং ২৬২/২০২৬) আদালত বাদিনীর আবেদন এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য রাউজান থানাকে নির্দেশ দেয়৷ গত ৯ মে রাউজান থানা পুলিশ হত্যা মামলাটি রুজু করে আদালতকে অবহিত করেন ।
গত এপ্রিম মাসের ২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে রাউজান থানাধীন দক্ষিন শমসের পাড়া,কদলপুর ৮নং ইউনিয়নের আমীর আলী হাজীর বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার ওপর নাসির তালুকদারকে গুলি ও উপর্যুপরি কুপিয়ে সন্ত্রাসীরা ফেলে যায়৷ পরে ২৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে৷ পাহাড়ের মাটি আর নদীর বালি ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার করতেই নাসিরকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে৷
মামলায় জানে আলম পিতা-আজিজুল হককে প্রধান আসামী করে মোট ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ভাবে ডাকাত আলম নামে পরিচিত জানে আলম নিজেকে কদলপুর যুবদলের আহবায়ক পরিচয় দেন৷ তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে৷ এছাড়া নাসির হত্যা মামলায় আরও ৬/৭ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, আজিজ প্রকাশ আজিজ বস, ফজল হক, কামাল হায়াদ খান, রুবেল, মান্নান, আসাদ, সালাউদ্দিন, আজিজ, মঞ্জু আলম, জানে আলম, আবছার প্রকাশ রানীর মা জামাই, রাজু, আলী আনছার প্রকাশ এ.কে. মাহমুদ৷ আসামীদের বেশীর ভাগের বাড়ি রাউজান থানায় হলেও একজন আসামীর বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানা এলাকায় এবং অপর একজনের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানায়।
রাউজান থানার ওসি মুহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম (পলাশ) আদালতের নির্দেশে নাছির তালুকদার হত্যা মামলাটি রুজু করার কথা স্বিকার করে বলেন, তদন্তের স্বার্থে এই মূহুর্তে কোন কমেন্টস করতে পারছি না৷ আমাদের তদন্ত কাজ চলমান৷ মামলার আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, মামলায় বাদি যাদের নাম দিয়েছেন তাদের এই হত্যাকান্ডের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷ আমরা প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার যেমন চেষ্টা করছি তেমনি কোন নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছি।

পুলিশ প্রহরায় হত্যা মামলার আসামী ! : চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন খন্দকার পাড়াস্থ কমল মুন্সির বাড়ীর আব্দুল কাদের ছেলে আজিজ (৩৭) এই হত্যা মামলার ১০নং এজাহার ভুক্ত আসামী৷ চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা’র সহোদর এই আজিজ ও তাদের পুরো পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ সার্বক্ষনিক বায়েজিদ থানা পুলিশের প্রহরায় বসবাস করছেন৷ মামলার এজাহারে এই আজিজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিহত নাসিরের মৃত্যু নিশ্চিত করতে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আজিজের বিরুদ্ধে হেলাল নামের এক যুবককে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা রয়েছে৷ এজাহারে নাম থাকলেও চান্দগাঁও থানার ওসি মোঃ নূর হোসেন মামুন জানিয়েছেন, কারো নাম এজাহারে থাকলেই তাকে গ্রেফতার করতে হবে এমন কোন কথা নেই৷ আমরা তদন্ত করে দেখছি৷ যদি অভিযোগের সত্যতা পাই তাহলে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে৷
চান্দগাঁও থানা সূত্র বলছে, হেলাল বাদি হয়ে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তাদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে হত্যার শিকার হয়ে মারা গেছেন৷ সেই হত্যা মামলায় হেলাল গ্রেফতার হয়েছে৷ এছাড়া আজিজের ভাই সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাতে গ্রেফতার হয়ে হেলাল বর্তমানে কারাগারে রয়েছে৷ অন্যদিকে হেলালের বোন সাখি আক্তার এই প্রতিবেদককে জানান, আমার ভাই হেলালকে ওরা প্রায় মেরেই ফেলেছিল৷ তার অবস্থা এতোটাই গুরুতর ছিলো যে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। সেই মামলার প্রায় দুই বছর হতে চললেও আমার ভাইকে হত্যাচেষ্টার মামলার কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি৷ উল্টো আমার ভাইকে দুই দুইটি হত্যা মামলায় জড়িয়ে জেলখাটানো হচ্ছে৷ বর্তমানে তার স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবার অভাব অনটনে আছে বলে জানান৷


